প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক লহমায় বদলে গেল শিল্পশহরের রাজনৈতিক সমীকরণ! স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, দীর্ঘ চার বছর পর অবশেষে দুর্গাপুর পুরনিগম নিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হলো। আজ, ২১ মে ২০২৬, দুর্গাপুরের সৃজনী হলে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী দুর্গাপূজা বা কালীপূজার পরেই যেকোনো সময়ে দুর্গাপুর পুরসভার বকেয়া নির্বাচন সম্পন্ন করা হতে পারে। তবে এই ঘোষণার চেয়েও যা নিয়ে এই মুহূর্তে শিল্পাঞ্চলে সবথেকে বেশি তোলপাড় শুরু হয়েছে, তা হলো বর্তমান প্রশাসকমণ্ডলী বা বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এক কঠোর সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিন ধরে ভোট না হওয়ায় যে বোর্ড পুরসভার কাজ চালাচ্ছিল, তা আজকেই ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জনগণের রায় ছাড়া পুরনিগম চলতে পারে না—এই গণতান্ত্রিক অধিকারকে মান্যতা দিয়েই রাজ্য প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই পুরভোটের প্রস্তুতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট দফতরকে সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation) এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক আইনি কাজ দ্রুত গতিতে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক স্তরে এখন সাজ সাজ রব। প্রশাসকমণ্ডলী ভেঙে যাওয়ার পর যাতে দুর্গাপুরের সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন পুরপরিষেবা পেতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা না হয়, তার জন্য কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত শহরের সমস্ত নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক ও সচল রাখতে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে সরাসরি দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই খবরটি দুর্গাপুরের সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির। মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত মার্জিত ও দৃঢ় ভাষায় আশ্বস্ত করেছেন যে, আগামী দিনে দুর্গাপুরে যে পুরভোট হবে, তা হবে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ। কোনো রকম ভোট লুটের ঘটনাকে বরদাস্ত করা হবে না এবং সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণ গনতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।