প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এত দিন শুধু নির্বাচন কমিশন দেখছিলো যে, কতটা দলদাসের মত কিছু আমলা কাজ করতে পারে। বারবার এই রাজ্যের মুখ্যসচিবের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি এই আমলারাই যদি থেকে যায় ভোটের সময়, তাহলে তারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে এবং তৃণমূলের হয়ে কাজ করতে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। অন্তত তেমনটাই অভিযোগ উঠেছিল বিরোধীদের পক্ষ থেকে। আর গতকাল নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ায় যাওয়ার পরেই খেলা দেখাতে শুরু করলো জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

প্রসঙ্গত, গতকাল নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যে বেজে গিয়েছে ভোটের দামামা। ইতিমধ্যেই আদর্শ আচরণবিধি লাগু হয়ে গিয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে গতকাল রাতেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নবান্নে একটি নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে তার জায়গায় মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেবেন দুষ্মন্ত নারিয়ালা। একইভাবে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব জগদীশ মিনাকেও তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে তার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংঘমিত্রা ঘোষকে। অর্থাৎ ভোট ঘোষণা হওয়ার দিনেই রীতিমত মাস্টারস্ট্রোক দিয়ে নির্বাচন কমিশন একটা বার্তা নবান্নকে দিতে চাইলো যে, যাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের কোনোভাবেই তারা এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বারবার বিরোধীরা এই রাজ্যের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এমনকি এই নন্দিনী চক্রবর্তী এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় বিভিন্ন জেলার জেলাশাসককে অভয় দিয়ে অবৈধ ভোটারদের রেখে দেওয়ার কাজ করলেও তাদের কেউ কিছু করতে পারবে না বলেই বার্তা দিয়েছিলেন। বারবার সেই বিস্ফোরক দাবি তুলে ধরেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর ভূমিকা নিয়েও নির্বাচন কমিশন যে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ ছিলো, তা বিভিন্ন খবরের মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে যায়। আর ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথেই সেই মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে নিজেদের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে নতুন দুজনকে এনে নবান্নকে নিজেদের ক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়ে রীতিমত অ্যাকশন দেখাতে শুরু করলো নির্বাচন কমিশন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।