প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- এতদিন হিন্দু ভোট তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে ছিল না। তৃণমূল কংগ্রেস ভেবেছিল যে, মুসলিমদের ভোট আর কিছু হিন্দুদের ভোট পেয়েই তারা ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু যেভাবে এসআইআর হয়েছে এবং তারপর যেভাবে সংখ্যালঘুরাও তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তাতে মুসলিম ভোট যে এবার তৃণমূল কংগ্রেস পাবে না, তা ভালো মতই উপলব্ধি করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই কারণেই আতঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে তাকে। ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবীর নতুন দল গঠন করে সংখ্যালঘুদের একত্রিত করার কাজ করছেন। প্রতিনিয়ত তিনি দাবি করছেন যে, তার এই দল এমন একটি সংখ্যা নিয়ে রাজ্য বিধানসভায় যাবে যে, তৃণমূল এবং বিজেপি, কেউ সরকার গঠন করতে পারবে না। এমনকি তারাই নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠবেন। আর এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় সংখ্যালঘুদের যেভাবে সম্বোধন করেছিলেন, তার সেই বক্তব্য নিয়েই পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীকে জবাব দিলেন হুমায়ুন কবীর।

এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে তোষণ করেন। এই অভিযোগ বিজেপির দীর্ঘদিনের। আর সেই নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে তোষণ করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সেই সম্প্রদায়ের সর্বনাশ করছেন বলেও দাবি করেন বিরোধীরা। তবে সংখ্যালঘুরা এতদিন বিকল্প না পেয়ে তৃণমূলের দিকেই আকৃষ্ট হয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে একদিকে হুমায়ুন কবীর নতুন দল গঠন করে সেই সংখ্যালঘুদের ভোটব্যাঙ্ক নিজের দিকে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। যার ফলে তৃণমূল তাদের সাধের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে যথেষ্ট চিন্তাশীল হয়ে পড়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে এবার মুখ্যমন্ত্রীকে সংখ্যালঘুরা যে কড়া ভাষায় জবাব দেবে ২৬ এর নির্বাচনে, এদিন সেই কথাই বুঝিয়ে দিলেন হুমায়ুন কবীর।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আর সেখানেই তিনি বলেন, “এর আগে বলেছিল তো মমতা ব্যানার্জি যে, মুসলমানরা আমার দুধেল গাই। যে গরু দুধ দেয়, তার লাথ খাওয়া ভালো। এবার জোড়া পায়ে লাথ খাবে মমতা ব্যানার্জি মুসলমানদের কাছে। এটা আপনাকে দায়িত্ব নিয়ে বলে গেলাম।” অর্থাৎ তিনি যে সমস্ত পরিকল্পনা কষে রেখেছেন এবং সংখ্যালঘুদের ভোট নিয়ে এতদিন তৃণমূল যতই লাফালাফি করার চেষ্টা করুন, এবার যে আর সেটা হবে না এবং সংখ্যালঘুদের সমর্থন যে তার দলের দিকেই আসবে, ঘুরিয়ে সেই কথাই বুঝিয়ে দিয়ে তৃণমূলের চাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন হুমায়ুন কবীর বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।