প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারেই ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন সময় সেই অভিযোগ করে বিরোধীরা। কিন্তু যখন নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়া করছে, যখন স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করার কাজ চলছে, তখন অনেকেই শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে তান্ডব চালাচ্ছেন। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেই অভিযোগ উঠছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেখানেও পুলিশ প্রশাসন যেভাবে নীরব ভূমিকায় রয়েছে, তা নিয়ে হতবাক নির্বাচন কমিশন। আর এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত মামলা নিয়ে যখন সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলছে, তখন এর আগের দিনই রাজ্যের ডিজিকে শোকজ করেছিল আদালত। আর আজ সেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিলো সুপ্রিম কোর্ট।
পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে এসআইআর চলছে, তা নিয়ে রীতিমত চাপে এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তারা বুঝতে পারছে যে, সঠিকভাবে এসআইআর হলে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকবে না। আর সেই কারণে বিভিন্ন সময় সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত মরিয়া চেষ্টা করেছেন, এই এসআইআর প্রক্রিয়াকে আটকানোর। কিন্তু ইতিমধ্যেই আদালত জানিয়ে দিয়েছে যে কোনোভাবেই এসআইআর প্রক্রিয়া আটকানোর কাজে বরদাস্ত করা হবে না। এমনকি এই রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন যেভাবে অশান্তির খবর আসছে, যেভাবে কিছু মানুষ আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল আদালতে। আর আজ রাজ্যের ডিজির বিরুদ্ধে যে বড় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা আদালত স্মরণ করিয়ে দিলো, তাতে এরপরেও যদি এই রাজ্যের প্রশাসন এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার পরেও কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তাদের কপালে যে চরম দুঃখ অপেক্ষা করছে, তা সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্রের খবর, এদিন সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানি হয়। আর সেখানেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। যেখানে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া মনোভাব পোষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যদি সঠিক না থাকে, তাহলে রাজ্য পুলিশের ডিজির বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই এমনিতেই যে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই, সেখানে একেবারে সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর প্রক্রিয়ায় আইন শৃঙ্খলা প্রতিনিয়ত বিঘ্ন হচ্ছে দেখে যে কড়া নির্দেশ দিতে বাধ্য হলো, তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের হুঁশ ফেরে কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।