প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বেকার ছেলে মেয়েরা ঘরে বসে আছে, চাকরি পাচ্ছে না। তাদের চাকরি দিতে পারছেন না এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। অথচ তিনি ভাতা দিতে পারছেন। দেড় হাজার টাকা করে তাদের ভাতা দিয়ে তিনি সেই বেকারদের মেরুদন্ড ধ্বংস করে দেওয়ার পথে তাদের আরও একধাপ এগিয়ে দিয়েছেন। এই অভিযোগ বিরোধীদের দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি রাজ্য বাজেটে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক যুবতীদের দেড় হাজার টাকা করে যুবসাথী প্রকল্প দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন। মাঝে সেই প্রকল্পের টাকা এপ্রিল মাস থেকে দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেন। আর আজ যে ধর্ণা তিনি দিচ্ছেন ধর্মতলায়, সেই মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন যে, এপ্রিল মাস নয়, আজ থেকেই যুবসাথী প্রকল্পের টাকা প্রত্যেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর বিরোধীরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার হারতে চলেছেন। তিনি নিজেও বুঝে গিয়েছেন। তাই এখন টাকা দিয়ে এখন থেকেই বেকারদের মধ্যে একটা ভোট পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা শুরু করে দিলেন তিনি।

২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে অত্যন্ত চাপের একটি নির্বাচন হতে চলেছে‌। এটা তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন। তাই এসআইআর আটকানোর সব রকম স্বপ্ন তার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আর সেই কারণে তিনি ভুয়ো ভোটারদের রাখার জন্য এখন আবার ধর্নার নাটক শুরু করে দিয়েছেন। আর সেই ধর্নার মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপলব্ধি করেছেন যে, এই ধর্না করেও লাভের লাভ কিছু হবে না। তার সরকারের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে, বিশেষ করে বেকার যুবক যুবতীরা যেভাবে চাকরি পাচ্ছে না, তাতে সামান্য ভাতা দিয়েও তিনি মানুষের মন জয় করতে পারবেন না। আর এই পরিস্থিতিতে আজ সেই ধর্ণা মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, এপ্রিল মাস থেকে যে যুব সাথী প্রকল্পের ১৫০০ টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল, সেটা আজ থেকেই প্রত্যেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণা শুধুমাত্র চমকপ্রদ নয়, এটা তার পরাজয়ের আতঙ্কের বহিঃপ্রকাশ বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।

বিজেপির ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার নিশ্চিত হারছেন। আজ তার এই ঘোষণার মধ্যে দিয়ে আরও একবার তা স্পষ্ট হয়ে গেল। তার এই সমস্ত ঘটনা দেখে মানুষ আর প্রভাবিত হচ্ছে না। মানুষ বুঝে গিয়েছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতিগ্রস্তদের পক্ষে। তিনি রোহিঙ্গা অবৈধ বাংলাদেশিদের পক্ষে। আর সেই কারণেই তিনি এই ধরনের নাটক করছেন। তাই মানুষ যখন তার ভাঁওতাবাজি ধরে ফেলেছে, তখন তিনি ওই সামান্য ভাতা দিয়ে আবার বেকারদের মন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। আর সেই কারণে পয়লা এপ্রিলের অপেক্ষা না করে আজ থেকেই সেই যুবসাথীর টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে বলে জানিয়ে দিয়ে নিজের পরাজয়কে আটকানোর একটা শেষ চেষ্টা শুরু করে দিলেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেই খোঁচা দিচ্ছে বিরোধীরা।