প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-এক লহমায় ফের তিন মাসের জন্য ঝুলে গেল রাজ্যের অন্যতম হাই-প্রোফাইল মামলার ভবিষ্যৎ। সল্টলেকের আইপ্যাক (I-PAC) দপ্তরে কেন্দ্রীয় এজেন্সির সেই হাই-ভোল্টেজ অভিযানের পর থেকেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলের নজর ছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে। আজ, শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি তিন মাসের জন্য পিছিয়ে গেলেও, আদালত কক্ষে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর জমা দেওয়া ‘গোপন রিপোর্ট’ ঘিরে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত এই মামলার ভবিষ্যৎ থমকে যাওয়ায় রাজনৈতিক অন্দরে এখন একটাই প্রশ্ন— তবে কি আইপ্যাকের ওপর আইনি ফাঁস আরও শক্ত হচ্ছে?
মামলার জল দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত গড়ানোর প্রেক্ষাপটটি কম নাটকীয় ছিল না। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি কয়লা পাচার মামলার তদন্তের সূত্র ধরে সল্টলেকে আইপ্যাকের কর্পোরেট অফিসে অতর্কিতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তল্লাশি চলাকালীনই সেখানে আচমকা হাজির হন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযানের মাঝে রাজ্যের তৎকালীন প্রশাসনিক প্রধানের সশরীরে উপস্থিতি ঘিরে সেই সময় জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। তৎকালীন রাজ্য সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছিল, তিনি তদন্তে কোনও বাধা দেননি এবং এজেন্সির অনুমতি নিয়েই কিছু রাজনৈতিক নথিপত্র সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। তবে বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এই ঘটনাকে তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর এক ধরণের ‘চাপ তৈরির চেষ্টা’ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছিলেন।
আজ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি উঠলে সবার নজর ছিল তদন্তের অগ্রগতি কোন দিকে যায় সেদিকে। এদিন শুনানির শুরুতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির পক্ষ থেকে আইপ্যাক মামলার তদন্ত সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতের বেঞ্চে পেশ করা হয়। ইডির পেশ করা এই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর এবং দু’পক্ষের প্রাথমিক সওয়াল-জবাব শুনে শীর্ষ আদালত মামলার শুনানি আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এই মামলার শুনানি তিন মাস পিছিয়ে যাওয়াকে আইপ্যাক শিবির সাময়িক স্বস্তি হিসেবে দেখলেও, বিজেপির আইনি ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা একে অন্য চোখে দেখছেন। তাদের মতে, ইডি যেভাবে সুপ্রিম কোর্টে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্যের রিপোর্ট জমা দিচ্ছে, তাতে তদন্তের জাল ইতিমধ্যেই অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। তাছাড়া, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এখন ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমল। আগামী আগস্ট মাসে যখন পুনরায় এই মামলার শুনানির আসর বসবে, তখন ইডির এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। ফলে আইপ্যাক ও তাদের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের অস্বস্তি যে এখনই কাটছে না, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, আগস্টের শুনানিতে ইডির এই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত কী চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়।