প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শিক্ষক কেলেঙ্কারি তো ছিলই, এবার পুরসভার ক্লার্ক থেকে পাম্প অপারেটরের চাকরি বিক্রির ‘পৌর উৎসবের’ কালি আরও গাঢ় হচ্ছে। পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার ‘হ্যাটট্রিক’ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকে তৃতীয়বারের জন্য তলব করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।এর আগে দু-দু’বার ইডির জাঁতাকলে পড়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন এই প্রভাবশালী নেতা। কিন্তু ইডি সূত্র দাবি করছে, প্রাক্তন মন্ত্রীর বয়ানে নাকি ‘এক আকাশ অসঙ্গতি’। সোজা কথায়, তাঁর উত্তরে এখনও পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি দুঁদে গোয়েন্দারা। তাই ফের হাজিরার কড়া ফরমান। আগামী সপ্তাহে তাঁকে আবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে সশরীরে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, রথীনবাবুও আর সমন এড়ানোর ঝুঁকি নেননি; সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি হাজিরা দেবেন।
অভিযোগের পাহাড়টা নেহাত ছোট নয়। কাঁচরাপাড়া, নিউ ব্যারাকপুর থেকে শুরু করে কামারহাটি— রাজ্যের একাধিক পুরসভায় প্রায় ১,৫০০ পদে নিয়োগের নামে সাধারণ কর্মপ্রার্থীদের রক্ত জল করা টাকা লুটের যে সিন্ডিকেট রাজ চলেছিল, তার জল কতদূর গড়িয়েছে, তা পরখ করতে কোমর বেঁধে নেমেছে ইডি। এর আগে এই একই মামলায় আরেক হেভিওয়েট সুজিত বসুকেও ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ফলে রথীন ঘোষের ওপর চাপ যে আরও বাড়ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।তদন্তকারীদের দাবি, এই নিয়োগ দুর্নীতির জাল শুধু ক্লার্ক বা ঝাড়ুদারের চাকরি বিক্রিতেই সীমাবদ্ধ নয়, এর শিকড় বহু গভীরে। কোটি কোটি টাকার এই কথিত অবৈধ লেনদেনের সিংহভাগ কার কার পকেটে ঢুকেছে, সেই অকাট্য প্রমাণ হাতে পেতেই এই মরিয়া জিজ্ঞাসাবাদ।
অতীতে পাঁচ-পাঁচবার সমন এড়িয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি, এমনটাই অভিযোগ। কিন্তু এখন রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে, হাওয়া বদলেছে। দুর্নীতিবাজদের মাথার ওপর থেকে ‘রক্ষাকর্তাদের’ হাত সরে গেছে। সাধারণ মানুষ এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে— আগামী সপ্তাহে সিজিও কমপ্লেক্সের বদ্ধ ঘরে প্রাক্তন মন্ত্রীর মুখ থেকে আর কী কী তথ্য বেরিয়ে আসে, নাকি এবারও তিনি ধোঁয়াশা তৈরি করার চেষ্টা করবেন? আইন কিন্তু নিজের পথেই চলছে, আর ইডির নজরে ফাঁকি দেওয়া যে এবার আর সহজ হবে না, তা সংশ্লিষ্ট মহল ভালো মতোই টের পাচ্ছে।