প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- এতদিন সিপিএম নেতারা বলতেন যে, বিজেপির সঙ্গেই সেটিং রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। আর সেই কথা বলে প্রত্যেকটি ভোটে তারা নো ভোট টু বিজেপি করে ২০২১ সালেও তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করেছিল। তবে এতদিন বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের সঙ্গে সেটিংয়ের অভিযোগ তুলে সিপিএম যতই তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করুন না কেন, এবার কিন্তু মানুষ তাদের নাটকটা ধরে ফেলেছে। এমনিতেই প্রতিকূর রহমান সিপিএম থেকে তৃণমূলে যোগদান করতে পারেন বলে জল্পনা ছড়িয়ে পড়ছে। আর তার মধ্যেই রাজ্যে যে যুবসাথী প্রকল্প মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছেন, যেই প্রকল্প নিয়ে বেকারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে, সেই প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করতে এবার সাহায্য করে দিচ্ছেন সিপিএম নেতারা। হ্যাঁ, শুনতে আশ্চর্য হলেও এইরকমই একটি দৃশ্য দেখতে পাওয়া গেল রাজ্যে। যেখানে কাটোয়ার ২ নম্বর ব্লকে যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে বসে সিপিএমের স্থানীয় নেতৃত্বরা যুবসাথী প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপে সাহায্য করছেন যুবক যুবতীদের।
সম্প্রতি এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বেকারদের আর ভোট পাওয়া যাবে না ভেবে নতুন একটি প্রকল্প এনেছেন। যদিও বা প্রথম থেকেই সেই প্রকল্পের টাকা যে এবারও কেউ পাবে না, সেই ব্যাপারে দাবি করে এসেছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সরকার যখন প্রকল্প করেছে, তখন সকলেই সেখানে আবেদন করুক, এমনটাও বলছেন সকলে। কিন্তু রাজ্যের বেকারদের পাকাপাকি সমস্যা সমাধান না করে যেভাবে ভাতা দিয়ে তাদের পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, আজীবন তার বিরোধিতা করে আসছে বিজেপি। আর মুখে সিপিএমের নেতারা এই প্রকল্পের বিরোধিতা করলেও, এবার তাদের বেশ কিছু নেতৃত্ব যেভাবে সেই যুবসাথী প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপের সাহায্য করে দিচ্ছেন, তাতে প্রশ্ন উঠছে যে, এটাই কি তাহলে বামেদের সঙ্গে তৃণমূলের আসল সেটিং? অতীতে হয়ত ধামাচাপা দিয়ে তাকে আড়ালে রেখেছিলেন বাম এবং তৃণমূলের নেতারা। কিন্তু এবার যেভাবে ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল আর কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসবে না বুঝতে পেরে গিয়েছেন, তখন কি বিজেপিকে আটকানোর জন্য একবারে প্রকাশ্যেই তৃণমূলের প্রতি প্রেম দেখানোর জন্য দরদ উথলে উঠছে বাম নেতাদের? কাটোয়ার ঘটনা পরিপ্রেক্ষিতে খোঁচা দিয়ে তেমনটাই বলছে বিজেপির ঘনিষ্ঠ মহল।
সূত্রের খবর, কাটোয়া 2 নম্বর ব্লকের এদিন এক আজব দৃশ্য দেখতে পাওয়া গিয়েছে। মুখে সিপিএম অনেক বড় বড় তৃণমূল বিরোধীতার কথা বলে। এমনকি তারা এটাও বলে যে, তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির নাকি সেটিং রয়েছে। কিন্তু সরকারি প্রকল্প, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, যে প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে বেকারদের কোনো পাকাপাকি সমস্যার সমাধান হবে না, সেই রকম প্রকল্প, যুবসাথীর ফর্ম ফিলাপ করতে সিপিএম নেতৃত্বকে সহযোগিতা করতে দেখা যাচ্ছে। আর এই দৃশ্য সামনে আসার পরেই অনেকে কটাক্ষ করে বলছে, এটাই হচ্ছে বামেদের আসল তৃণমূল প্রেম। এখন বাম নেতৃত্ব বলতেই পারে যে, এটা তো সরকারি প্রকল্প। যেহেতু সাধারণ যুবক-যুবতীরা তাতে আবেদন করছেন, তাই তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। কিন্তু তাদের উচ্চতর নেতৃত্বই তো বলে থাকেন যে, এইরকম প্রকল্প কোনোদিন বেকারদের ভবিষ্যৎ হতে পারে না। তাহলে সেই প্রকল্পতে যুবক-যুবতীদের সহযোগিতা করে সিপিএম কি তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে? নাকি তৃণমূলের প্রতি এই প্রকল্পের প্রচার করে আরও বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে? প্রশ্নটা তুলছেন রাজনৈতিক সমালোচকরা।