প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীরা তারা সবার ঊর্ধ্বে থাকতে চায়। সবকিছুর ঊর্ধ্বে, এমনকি মনীষীদের ঊর্ধ্বেও তারা নিজেকে মনে করেন। আর তার জলজ্যান্ত নিদর্শন দেখা গেল আজ। যেখানে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন পালন হচ্ছে, সেখানে সিমলা স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বাগত জানিয়ে তার ছবি দিয়ে সেখানে যুবরাজ লিখে দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক হচ্ছে। স্বামী বিবেকানন্দের উর্ধ্বে উঠে এইভাবে কাউকে যুবরাজ আজকের দিনে বলা কি সত্যিই শোভনীয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সকলেই। আর এসবের মধ্যেই এবার গোটা বিষয়ে এই হোর্ডিং বিতর্কে তৃণমূল এবং তাদের যুবরাজ বলে যিনি পরিচিত, যাকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে, সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিলেন শমীক ভট্টাচার্য।

এই রাজ্যের বুকে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মন্তব্যের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেউ আবার শ্রীরামকৃষ্ণ, সারদা মায়ের সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর অনেক সময় তুলনা করেছেন। যা নিয়েও বিভিন্ন মহলে চর্চা হয়েছে। যার ফলে একটা জিনিস স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও যে, তৃণমূলের যারা নেতা-নেত্রীরা রয়েছেন, তারা নিজেদের পয়েন্ট বাড়ানোর জন্য যা খুশি তাই বলতে শুরু করেছেন। এমনকি মনীষীদের ঊর্ধ্বেও তারা নিজের দলের নেত্রী এবং যুবরাজকে মনে করেন। আজ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন। সকলেই তার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন। কিন্তু সেখানেই দেখা গিয়েছিল যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বাগত জানিয়ে সেখানে যুবরাজ শব্দ লেখা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিবেকানন্দের জন্মদিনে এইরকম একটি হোর্ডিং প্রকাশ্যে আশায় রীতিমত বিতর্ক তৈরি হয়। আর সেই বিষয় নিয়েই এবার তৃণমূলকে পাল্টা খোঁচা দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।

এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বাগত জানিয়ে যে যুবরাজ লেখা পোস্টার দেয়া হয়েছে, সেই বিষয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে একটি প্রশ্ন করা হয়। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “যে যেভাবে স্বামী বিবেকানন্দকে দেখতে চান, সম্মান জানাতে চান, তার সেই অধিকার রয়েছে। কেউ কেউ তো কালীঘাটে মা সারদাদেবীর আবির্ভাব দেখেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে সারদাদেবীকে দেখতে পেয়েছেন। আর কেউ যদি স্বামী বিবেকানন্দের ওপরে উত্তরাধিকারীকে দেখতে পান, তাহলে বিবেকানন্দের ওপরে যুবরাজের ছবি টাঙ্গিয়ে দিয়েছেন। এটাই তো পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান চিত্র।‌ এটাই তো এগিয়ে বাংলা।”