প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি এসআইআরের প্রতিবাদে ধর্নায় বসে গিয়েছিলেন। তিনি যখন বুঝতে পেরেছিলেন যে, লাভের লাভ কিছু হবে না, প্রচুর অবৈধ ভোটার এবং রোহিঙ্গা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ চলে গিয়েছে, তখন আর তার করার কিছু ছিল না। আর সেই কারণেই দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য তিনি এই ধর্না করে নিজে লাইমলাইটে আসার একটা মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ধর্না তুলে নিয়েছেন। আর তিনি এমন একটা দিনে ধর্না তুলে নিলেন, যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কলকাতা ছাড়লেন এবং বিজেপিরও পরিবর্তন যাত্রা শেষ হয়ে গেল। তাই বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা যখন চলছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী সেদিক থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর জন্যই যে এই ধারণা করেছেন এবং তার এই ধর্না যে এবার চূড়ান্ত ফ্লপ হয়েছে, সেই নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।
২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে পরাজয়ের আতঙ্কে যে ভুগছে তৃণমূল কংগ্রেস, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বডি ল্যাঙ্গুয়েজের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্তত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা তেমনটাই বলছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখনই দেখেন, তিনি বিপাকে পড়ছেন, তখনই তিনি ধর্নার আশ্রয় নেন। এবারেও যেভাবে এসআইআর হয়েছে, তাতে তিনি বুঝে গিয়েছেন যে, তার সরকার আর ফিরছে না। আর সেই কারণেই তিনি শেষ সম্বল হিসেবে ধর্নার নাটক করছেন বলেই দাবি করেছিল বিজেপি। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন থেকেই ধর্নার প্র্যাকটিস করুন, কারণ এরপর তাকে বিরোধী দলনেত্রী হিসেবে মাঝেমধ্যেই ওই রাস্তায় ধর্নাতেই বসে থাকতে হবে বলেও খোচা দিয়েছিলেন বিজেপি নেতারা। আর এসবের মধ্যেই হঠাৎ করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন সেই ধর্না তুলে নিলেন, তাহলে কি তিনি বুঝতে পারছেন যে, আর লাভ কিছু হবে না? এই সমস্ত প্রশ্ন যখন উঠছে, ঠিক তখনই এর বড় কারণ সামনে আনলেন শমীক ভট্টাচার্য।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আর সেখানেই তিনি বলেন, “অনেকগুলো বিষয় রয়েছে। পরিবর্তন যাত্রা বেরিয়েছে। সেখান থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য ধর্না মঞ্চ। ধর্না মঞ্চ তো অসাড়। এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর কোনো ধর্না হলো প্রাণহীন। যেখানে কোনো তাপও নেই, চাপও নেই। এখন জ্ঞানেশ কুমারও চলে গিয়েছেন, আমাদেরও পরিবর্তন যাত্রা শেষ। তাই উনিও তুলে নিয়েছেন।”