প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- তৃণমূলে থাকলে কি বোধ বুদ্ধি সব কিছু বিসর্জন দিয়ে দিতে হয়? আর সেটাই কি করছেন বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়? তিনি সংসদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। জুন মালিয়া না হয় নতুন সংসদে গিয়েছেন। কিন্তু তিনি তো দীর্ঘদিনের সদস্য। ফলে তিনি তো জানেন, সংসদে কি করতে হয় না করতে হয়। এমনটা নয় যে, সংসদে আলোচনার সময় কেউ কথা বলে না। কিন্তু সৌগতবাবু যখন গঠনমূলক আলোচনা করেন, যখন তার বক্তব্য সকলেই শোনার অপেক্ষায় থাকে, সেখানে তার মত বর্ষীয়ান সাংসদ অন্য একজন যখন সংসদে কথা বলছেন, যখন বক্তব্য রাখছেন, তখন পেছনের বেঞ্চে বসে যেভাবে জুন মালিয়ার সঙ্গে খুনসুটিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, সেই ছবি সামনে আসার পর সকলেই গোটা বিষয়কে ধিক্কার জানিয়েছেন। এমনকি বিরোধীদের পক্ষ থেকেও সংসদে একজন সাংসদ বক্তব্য রাখার সময় আর একজন সাংসদ যেভাবে খুনসুটি করেছেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেই দাবি করা হচ্ছে। তবে এতকিছুর পরেও নিজের এই খুনসুটির চিত্র সামনে এলেও তাতে যে তিনি কোনো অন্যায় করেননি, তা বুঝিয়ে দিলেন সৌগত রায়।
সম্প্রতি লোকসভার একটি অধিবেশনের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। যেখানে দেখতে পাওয়া যায় যে, একজন সাংসদ বক্তব্য রাখছেন। আর সেই সময় পেছনের বেঞ্চে বসে তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগাত রায় এবং জুন মালিয়া গল্প করছেন। তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এবং কথাবার্তার ধরন দেখে অনেকেই বলতে শুরু করেন যে, এটা খুনসুটি ছাড়া আর কিছু নয়। আর সেখানেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে যে, জুন মালিয়া না হয় সংসদে নতুন গিয়েছেন। কিন্তু সৌগত বাবু তো সংসদের দীর্ঘদিনের সদস্য। তার কাছ থেকে কি এরকম আচরণ আশা করা যায়? সংসদে আলোচনা চললে কেউ নিজেদের মধ্যে কথা বলতে পারবে না, এমনটা নয়। কিন্তু সৌগতবাবুর তো যারা নতুন সংসদে এসেছেন, তাদের সংসদের শিষ্টাচার, পরম্পরা শেখানো উচিত। তার বদলে তিনিই যদি খুনসুটিতে মেতে যান, তাহলে যারা নতুন সদস্য হচ্ছেন, তারা কি শিখবেন? এই প্রশ্ন তুলতে শুরু করে বিরোধীরা। তবে বিভিন্ন জায়গায় সমালোচনার মুখে পড়লেও, তিনি যে অন্যায় কিছু করেননি, ঘুরিয়ে সেই কথাই বুঝিয়ে দিলেন সৌগত রায়।
এদিন এই বিষয়ে সৌগত বাবুকে একটি প্রশ্ন করা হয়। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “সংসদে প্রায় সাড়ে ৫০০ সদস্য রয়েছেন। একজন যখন কথা বলে, তখন তার মধ্যে যদি ৩০০ লোক থাকেন, ২০০ জনই গল্প করেন। সংসদে সবাই সবার সঙ্গে গল্প করতে পারে। মন্ত্রীরা নিজে গল্প করে। এক পার্টির লোক অন্য পার্টির লোকের সঙ্গে গল্প করে। আমি তো নিজের পার্টির মহিলার সঙ্গে কথা বলছিলাম।” আর এখানেই বিরোধীরা বলছেন, তৃণমূলে থাকলে লাজ, লজ্জা, নীতিবোধ সবকিছুকে বিসর্জন দিতে হয়। সেটাই সৌগতবাবুর কথার মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেল। তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই। যেভাবে তিনি খুনসুটিতে মজে ছিলেন, তারপর বিতর্ক তৈরি হওয়ার পরে তিনি যে কিছুটা হলেও কুণ্ঠাবোধ করবেন, সেই রকম মনোবৃত্তি পর্যন্ত দেখতে পাওয়া গেল না। ফলে বোঝাই যাচ্ছে যে, তৃণমূল কংগ্রেসে থাকলেই লাজলজ্জা বিসর্জন দিয়ে শিষ্টাচার, পরম্পরার বিরুদ্ধেই সকলকে কাজ করতে হবে বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।