প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নিউ ফরাক্কায় রেললাইনের নিচে মাটি ধসে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হওয়ার পর, এবার আটকে পড়া হাজার হাজার যাত্রীর পাশে সরাসরি দাঁড়াল রাজ্য সরকার। মাঝরাস্তায় ট্রেনের কামরায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করতে এবার নবান্ন থেকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার প্রশাসনিক প্রধানদের (DM) যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ত্রাণের কাজে নামার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এক জরুরি প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী আটকে পড়া সাধারণ মানুষের জন্য একগুচ্ছ স্বস্তিদায়ক সরকারি সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন।

রেলযাত্রীদের দুর্দশা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “নিউ ফরাক্কায় রেললাইনের সমস্যার কারণে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে মাঝরাস্তায় যে সমস্ত সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন, তাঁদের জন্য বিকল্প বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। আমি মালদা এবং মুর্শিদাবাদ—দুই জেলার জেলাশাসকদের (DM) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি, আটকে থাকা ট্রেনগুলোতে গিয়ে প্রতিটি যাত্রীর হাতে খাবারের প্যাকেট ও পর্যাপ্ত পানীয় জল পৌঁছে দিতে।”এর পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী স্বস্তির বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাঁরা আটকে আছেন, তাঁদের থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার DM-রা খাবার ও জল দিচ্ছেন।” নবান্ন সূত্রের খবর, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরকারি অতিথি শালা ও স্থানীয় হোটেল বা লজে যাত্রীদের থাকার সম্পূর্ণ খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে।

কেবল থাকা-খাওয়া নয়, দূরপাল্লার ট্রেন বাতিলের জেরে শিলিগুড়ি বা কলকাতাগামী যাত্রীরা যাতে চরম হয়রানির শিকার না হন, তার জন্য পরিবহন দফতরকেও বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরবঙ্গ ও কলকাতার মধ্যে ইতিমধ্যেই ২০টি অতিরিক্ত বিশেষ বাস নামানো হয়েছে। বেসরকারি বাসগুলি যাতে এই বিপর্যয়ের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে অতিরিক্ত বা অন্যায্য ভাড়া আদায় করতে না পারে, তার জন্যও জেলা পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রেললাইনের ধস মেরামতের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হলেও, যাত্রীদের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপ মাঠপর্যায়ে কার্যকর হতে শুরু করেছে।