প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেখতে দেখতে দিন বদলায়, আর দিন বদলাতেই কীভাবে রাজনীতির আঙিনায় ভোল বদলায়—আজ তার জলজ্যান্ত প্রমাণ দেখল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা! একটা সময় যাঁর দিকে আক্রমণ করতে শব্দের পর শব্দ খরচ করতেন, আজ তাঁর দিকেই প্রশংসার ফুলঝুরি! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা অধুনা বিধানসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বা ‘ঋতব্রত-শিবিরে’র অন্যতম চালিকাশক্তি ফিরহাদ (ববি) হাকিম। কিন্তু প্রশ্ন হলো, হঠাৎ এই ভক্তি উথলে ওঠার নেপথ্যে আসল রহস্যটা কী? সংসদীয় সৌজন্য, নাকি রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার মরিয়া তাগিদ?
এদিন বিধানসভার বাদল অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বিধায়করা এলাকার যেসব সমস্যা বিধানসভায় তুলবেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের ৭ দিনের মধ্যে তার লিখিত জবাব দিতে হবে। আর এর ওপর সরাসরি নজরদারি চালাবে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দফতর (CMO)। এই ঘোষণার পরেই কার্যত গদগদ হয়ে পড়েন বিরোধী আসনে বসা তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। বিধানসভায় দাঁড়িয়েই তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। দলমত নির্বিশেষে বিধায়কদের যে সম্মান উনি আজ দিলেন, এমন বিষয় আমি আগে দেখিনি।”
রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র গুঞ্জন—যিনি একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন, সেই ববি হাকিম আজ দিদির বলয় ছেড়ে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবিরের পাশে গিয়ে বসেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, নতুন ডেরায় গিয়েও কি স্বস্তি মিলছে না? একাধিক আইনি কেলেঙ্কারি আর কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তের আবহে শুভেন্দুর স্তুতি গেয়ে কি আসলে নিজের রাজনৈতিক ও আইনি সুরক্ষাকবচ মজবুত করার চেষ্টা চলছে? ববি হাকিমদের মতো ঝানু রাজনীতিকদের এই সুচতুর প্রশংসায় যদি বিজেপি নেতৃত্ব গলে যায়, তবে তা হবে দলের নিজের পায়ে নিজে কুড়ুল মারা। দুর্নীতিমুক্ত বাংলার লড়াইয়ে যে বিজেপি কর্মীরা রক্ত দিলেন, এই চাণক্যদের প্রতি নরম মনোভাব দেখালে তাঁদের সেই ত্যাগ অপমানের মুখে পড়বে।
আজ ক্ষমতার বাইরে গিয়ে যাঁরা সুড়সুড় করে সুর নরম করছেন আর মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করছেন, ক্ষমতার অলিন্দে ফেরার সামান্যতম সুযোগ পেলেই যে তাঁরা আবার রূপ দেখাবেন না, তার গ্যারান্টি কে দেবে?রাজনীতিতে সৌজন্য ভালো, কিন্তু অতিভক্তি যে চোরের লক্ষণ—সেটা ভুলে গেলে চলবে না। ববি হাকিমদের এই হঠাৎ ‘মহানুভবতা’র ফাঁদে পা দিলে বিজেপির নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাই মানুষের কাছে সংকটে পড়বে।
গণতন্ত্রে সৌজন্যের খাতির থাকতেই পারে, কিন্তু আদর্শের বা দুর্নীতির প্রশ্নে কোনও আপস হতে পারে না। ববি হাকিমদের এই হঠাৎ ভোলবদল আসলে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে টিকে থাকার লড়াই। বিজেপি নেতৃত্বকে মনে রাখতে হবে—প্রশংসা শুনুন, কিন্তু ফাঁদে পা দেবেন না। সাপের খোলস বদলালেও তার বিষ দাঁত কিন্তু অক্ষতই থাকে।