প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনৈতিক আকাশে আজ যেন এক প্রবল বজ্রপাত ঘটালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের গোচিহারে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবথেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। শাহর মুখে আজ শোনা গেল সেই শব্দবন্ধ, যা শুনে কার্যত থমকে গিয়েছে গোটা রাজ্য। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি ঘোষণা করলেন— “৫ তারিখের পর সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের আমরা উল্টো করে টাঙিয়ে সোজা করব!”

এদিন গঙ্গারামপুরের সভা ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। উপস্থিত জনসমুদ্রের উদ্দেশে শাহ প্রশ্ন করেন, “বালি, ইট কিংবা সিমেন্ট কিনতে গেলে কি সিন্ডিকেটকে ‘ট্যাক্স’ দিতে হয় কি হয় না?” জনতার সমবেত গর্জনের উত্তরে শাহ আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনারা একদম চিন্তা করবেন না। শুধু পদ্মচিহ্নে বোতাম টিপুন। ৫ তারিখের পরেই এই সিন্ডিকেটরাজ পুরো রাজ্যে চিরতরে বন্ধ হবে। দিদির দুর্নীতির দিন শেষ হয়ে যাবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ‘উল্টো করে টাঙানো’র রূপকটি আসলে অত্যন্ত ইঙ্গিতবহ। এটি কেবল নির্বাচনী বাগাড়ম্বর নয়, বরং দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর এক বিশাল ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর পূর্বাভাস হতে পারে। শাহ এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের কষ্টের টাকায় যারা ভাগ বসাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ৫ তারিখের পর থেকে কোনো আপস করা হবে না। আইনের কঠোরতম প্রয়োগ করে সিন্ডিকেট রাজ সমূলে উৎপাটন করার সংকল্পই আজ ধরা পড়েছে তাঁর গলায়।

অমিত শাহর এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে যখন বিজেপি কর্মীরা এই মন্তব্যে নতুন করে অক্সিজেন পাচ্ছেন, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রবল অস্বস্তি। শাহ সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন ‘দিদি’র সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি দাবি করেছেন, সিন্ডিকেট রাজের কারণে সাধারণ মানুষ আজ নিজভূমে পরবাসী। ঘর তৈরি করতে গেলেও যে তোলাবাজি সহ্য করতে হয়, তার অবসান ঘটাতে বিজেপি বদ্ধপরিকর।

এদিন গঙ্গারামপুরের সভায় যখন শাহ ‘উল্টো করে টাঙানো’র কথা বলছিলেন, তখন উপস্থিত মানুষের হাততালিতে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই চরম মেজাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে, নির্বাচনের শেষ বেলায় এসে বিজেপি দুর্নীতির ইস্যুকে আর লঘু করে দেখছে না। ৫ তারিখের পর বাংলার প্রশাসনিক স্তরে বা তদন্তের গতিপ্রকৃতিতে বড় কোনো রদবদল ঘটে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।