প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব মোড়। শুক্রবার নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে শুধু মাস্টারপ্ল্যানের কাজের তদারকিই করলেন না, কুশপাতার রাম মন্দিরে পুজো দিয়ে খোদ তৃণমূল সাংসদ দেবের গলায় শোনা গেল ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। যে স্লোগানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল ও বিজেপির লড়াই দীর্ঘদিনের, নির্বাচনের মুখে দেবের সেই স্লোগান দেওয়া রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা উসকে দিয়েছে।
এদিন দেবকে দেখা যায় সম্পূর্ণ অন্য মেজাজে। পরনে গেরুয়া উত্তরীয় এবং কপালে তিলক কেটে রাম মন্দিরে আরতি করেন তিনি। পুজো শেষে মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘাটালে বিজেপির ক্রমবর্ধমান জনভিত্তি এবং হিন্দুত্ববাদী আবেগকে টেক্কা দিতেই কি দেবের এই পদক্ষেপ? বিজেপির দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, তৃণমূল রাম-নামে ভয় পায়। দেবের এই আচরণ কি পরোক্ষভাবে বিজেপির সেই নৈতিক জয়কেই সিলমোহর দিল? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জেলার অলিতে-গলিতে।
মাস্টারপ্ল্যানের কাজ পরিদর্শন করে দেব জানান যে, ২০২৬-এর মধ্যেই এই মেগা প্রজেক্ট শেষ করাই লক্ষ্য। তবে রাজনৈতিক মহলের দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনে এই এলাকায় বিজেপির শক্ত লড়াই তৃণমূলকে যথেষ্ট চাপে রেখেছে। সেই চাপ সামাল দিতেই কি উন্নয়নের পাশাপাশি এখন ‘রাম-কার্ড’ খেলছে শাসক দল?
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল বুঝতে পেরেছে যে রাম-নাম ছাড়া এ রাজ্যে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া কঠিন। তবে দেবের এই কৌশল তৃণমূলের পুরনো কর্মীদের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি করে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। বিরোধীদের মতে, এটি আসলে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির কাছে তৃণমূলের একপ্রকার ‘ব্যর্থতা’ বা ‘আত্মসমর্পণ’।