প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার অনেক আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম। যে জনপদ একসময় পরিবর্তনের লড়াই দেখেছিল, সেই নন্দীগ্রামেই এবার লড়াই ‘আদি বনাম নব’ এবং ‘দলবদলু বনাম নিষ্ঠাবান’ কর্মীদের। বিজেপি ছেড়ে আসা পবিত্র করকে তৃণমূল কংগ্রেস টিকিট ঘোষণা করতেই ঘাসফুল শিবিরে শুরু হয়েছে প্রবল অন্তর্কলহ। এর প্রতিবাদেই এবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন দীর্ঘদিনের নেতা দেবাশিস দলপতি।
নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বয়াল ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান পবিত্র কর একসময় শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বড় চমক দিয়ে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে পবিত্র করকেই প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। লক্ষ্য ছিল, শুভেন্দুর প্রাক্তন সঙ্গীকে দিয়েই তাঁর গড়ে ফাটল ধরানো।
কিন্তু এই ঘোষণা হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল স্তরের একাংশ কোনোভাবেই পবিত্র করকে মেনে নিতে পারছেন না। কর্মীদের অভিযোগ, যারা বছরের পর বছর তৃণমূলের ঝাণ্ডা ধরে লড়াই করেছেন, তাঁদের সরিয়ে একজন নবাগত এবং প্রাক্তন বিজেপি নেতাকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষোভের আগুন থেকেই শুরু হয় বিদ্রোহ।
পবিত্র করের প্রার্থীপদ ঘোষণার পরেই এবার তৃণমূল ছাড়ার কথা জানান জনপ্রিয় নেতা দেবাশিস দলপতি। চরম অসন্তোষ থেকেই তিনি তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগদান করেন। তাঁর সঙ্গে আরও বেশ কিছু কর্মী-সমর্থক পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন বলে খবর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর শক্তি ক্ষয়ের আশায় পবিত্র করকে আনা হলেও, বাস্তবে তৃণমূলের নিজস্ব সংগঠনই এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে। আদি তৃণমূল কর্মীদের এই দলত্যাগ দলকে আগামী নির্বাচনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিতে পারে। অন্যদিকে, বিজেপি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংগঠনকে আরও মজবুত করতে শুরু করেছে। ভোটের আগে এই দলবদলের খেলা নন্দীগ্রামের লড়াইকে আরও নাটকীয় করে তুললো। এখন দেখার, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিদ্রোহ সামাল দিতে কী পদক্ষেপ নেয়।