প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতির ময়দানে লড়াই হবে নীতি আর উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে—গণতন্ত্রে এটাই দস্তুর। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বনগাঁর মাটি থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাষায় বিরোধী শিবিরকে আক্রমণ করলেন, তাতে রাজনীতির মানদণ্ড কোন অতলে গিয়ে ঠেকেছে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে বিরোধী দলকে ‘গোখরো সাপ’ বা ‘বিষবৃক্ষ’ বলে দাগিয়ে দেওয়া—মুখ্যমন্ত্রীর এই মরিয়া মেজাজ কি আসলে কোনো বড় হারের অশনি সংকেত?
একজন প্রশাসনিক প্রধান যখন প্রকাশ্য জনসভায় দাঁড়িয়ে একটি জাতীয় দলকে লক্ষ্য করে ‘বিষ’ বা ‘সাপ’-এর মতো শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন, তখন তা কেবল রাজনৈতিক আক্রমণ থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত কুৎসার নামান্তর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, উন্নয়নের তাস যখন কাজ করে না, তখনই সম্ভবত এই ধরনের চরম বিশেষণ বা ‘গালিগালাজ’ নির্ভর রাজনীতির আশ্রয় নিতে হয়। বনগাঁ ও বাগদার সাধারণ মানুষ কি উন্নয়নের বদলে এই উস্কানিমূলক শব্দ শুনতে চেয়েছিলেন?
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তুলেছেন, লক্ষ লক্ষ নাম নাকি ভোটার তালিকা থেকে ‘কেটে’ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের। সেই প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল থাকলে তার প্রতিকারের আইনি পথ রয়েছে। তা না করে কেন একে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে? ভোটারদের মধ্যে এই ‘ভয়’ ঢুকিয়ে কি আসলে নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখার কৌশল নেওয়া হচ্ছে?
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আগুন বা নদীর ভাঙন ধর্ম দেখে না। কথাটি চিরন্তন সত্য। কিন্তু সেই সত্যকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে ‘গোখরো সাপ’ বলাটা কি প্রকারান্তরে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণেরই উল্টো পিঠ নয়? ভোটের আগে ‘হিন্দু-মুসলমান’ বিভাজনের যে অভিযোগ তিনি বিরোধীদের দিকে ঠেলছেন, নিজের বক্তৃতায় ‘বিষবৃক্ষ’ তত্ত্ব এনে কি তিনি নিজেই সেই বিভাজনের আগুনকে উসকে দিলেন না?
বনগাঁ ও বাগদা এলাকাটি মূলত মতুয়া অধ্যুষিত। সেখানে নাগরিকত্ব ইস্যু এবং ভোটার কার্ড নিয়ে মানুষের মনে এমনিতেই অনেক আবেগ কাজ করে। সেই আবেগকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের প্রতি ‘ঘৃণা’ ছড়িয়ে দেওয়াটা কি সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ?
পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬-এ পায়ের তলা থেকে জমি সরে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই কি এই ‘কামড়’ দেওয়ার মত আগ্রাসী ভাষা ব্যবহার করছেন মুখ্যমন্ত্রী? বনগাঁর মানুষ কিন্তু বুদ্ধিমান। তাঁরা ‘বিষ’ আর ‘অমৃত’-এর তফাত বোঝেন। এখন দেখার, এই ‘সাপ-লুডু’র খেলায় শেষ পর্যন্ত জয় কার হয়—উন্নয়নের রাজনীতির, নাকি ব্যক্তিগত কুৎসার?