প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। কিন্তু তার আগেই যেন এক অজানা আশঙ্কায় ভুগছে রাজ্যের শাসক শিবির। আগামীকাল বিকেল ৪ টেয় দলের সমস্ত কাউন্টিং এজেন্ট এবং প্রার্থীদের নিয়ে তড়িঘড়ি ভার্চুয়াল বৈঠকে বসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশ্ন উঠছে, জনসমক্ষে জয়ের দাবি করলেও ভেতরে কি আসলে সিঁদুরে মেঘ দেখছে জোড়াফুল শিবির?
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের পর বুথ ফেরত সমীক্ষা এবং বিভিন্ন জেলার রিপোর্ট আসার পর থেকেই শাসকদলের অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলের একাধিক আসনে তৃণমূলের ফলাফল নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চিন্তিত। এই পরিস্থিতিতে গণনাকেন্দ্রে এজেন্টরা শেষ পর্যন্ত মাটি কামড়ে পড়ে থাকবেন কি না, তা নিয়ে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনেই সংশয় তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্রের খবর, এবারের বৈঠকে অভিষেকের নিশানায় থাকতে পারে দলের সেই সমস্ত কর্মীরা, যারা ‘ভিতরে ঘাসফুল, বাইরে পদ্ম’ নীতিতে চলছেন। অতীতে দেখা গিয়েছে, গণনার মাঝপথেই অনেক এজেন্ট বুথ ছেড়ে চলে যান অথবা বিরোধী শিবিরের সঙ্গে সমঝোতা করে ফেলেন। সেই ‘বিদ্রোহ’ বা ‘অদৃশ্য শত্রু’দের রুখতেই কি এই জরুরি তলব? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এজেন্টদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো মানেই হার স্বীকার করে নেওয়া— আর সেই ঝুঁকি এবার নিতে নারাজ কালীঘাট।
শাসকদলের পক্ষ থেকে বারবার স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। যদিও বিরোধীদের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই এখন থেকেই নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর দায় চাপানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে তৃণমূল। গণনার দিন যদি ফলাফল আশানুরূপ না হয়, তবে এজেন্টরা যেন কোনোভাবেই নতিস্বীকার না করেন, সেই দাওয়াই দেওয়া হতে পারে এই বৈঠক থেকে।
বিজেপি শিবিরের কটাক্ষ, “ভয় পেয়েছে তৃণমূল, তাই এখন এজেন্টদের ক্লাস নিতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে দিয়েছেন, এখন এজেন্ট দিয়ে আর ফল পাল্টানো যাবে না।” সব মিলিয়ে, ৪ ঠা মে-র আগে অভিষেকের এই বৈঠককে নিছক রণকৌশল বলতে নারাজ অভিজ্ঞ মহল। বরং একে শাসকদলের ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বা অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক বৃত্ত। এখন দেখার, অভিষেকের এই ‘ভার্চুয়াল টনিক’ গণনাকেন্দ্রে তৃণমূল কর্মীদের কতটা চাঙ্গা করতে পারে, নাকি ব্যালট বাক্সের রায় সব হিসেব উল্টে দেয়।