প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বাংলার নির্বাচনী রণাঙ্গনে এবার নয়া মোড়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ময়নাগুড়ির নির্বাচনী সভা থেকে বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া ‘পোস্টার’ নিদানকে স্রেফ রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, বরং ‘সরাসরি খুনের হুমকি’ হিসেবে দাগিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার এই বিষয়ে রাজ্যের প্রধান নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দপ্তরে গিয়ে নালিশ ঠুকলেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ মে, ময়নাগুড়িতে তৃণমূল প্রার্থী রামমোহন রায়ের সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভায়। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিজেপি কর্মীরা নাকি তাঁর প্রার্থীকে গাছে বেঁধে পেটানোর হুমকি দিচ্ছে। এর পাল্টা দিতে গিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এসব করতে যেও না। নির্বাচনের পরে পোস্টার লাগিয়ে বলতে হবে, আমি বিজেপি করি না।”
এদিন কমিশনের দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রীতিমত আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়েন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে বিরোধী কর্মীদের ভয় দেখানোর এক গভীর ষড়যন্ত্র। শুভেন্দুর ভাষায়, “এক জন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে প্রকাশ্য সভা থেকে বিজেপি কর্মীদের দল ছাড়ার জন্য পোস্টার লাগানোর নিদান দিতে পারেন? এর মানে খুব পরিষ্কার— যারা বিজেপি করবে, তাঁদের এই রাজ্যে থাকতে দেওয়া হবে না। এটি সরাসরি খুনের হুমকির শামিল এবং নির্বাচনের পর রাজ্যে ফের রাজনৈতিক হিংসা উসকে দেওয়ার নীল নকশা।”
এদিন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল সিইও দপ্তরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ওই বক্তব্য সহ একাধিক বিষয়ে তাদের অভিযোগ জমা দেন। বিরোধী দলনেতার দাবি, একজন প্রশাসনিক প্রধান এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে প্রকাশ্য জনসভায় বিরোধী কর্মীদের চিহ্নিত করে ‘শাস্তি’র প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তা নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। তিনি অবিলম্বে এই ধরণের ‘উস্কানিমূলক’ ভাষণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট নেতাকে প্রচার থেকে বিরত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ‘পোস্টার বিতর্ক’ বাংলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী আত্মরক্ষার কথা বলছেন, তখন শুভেন্দু অধিকারী তাকেই ‘হুমকি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ে ধার বাড়াচ্ছেন। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এই ধরণের মন্তব্য আসলে শাসক শিবিরের হারের আতঙ্ককেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে। গেরুয়া শিবিরের প্রশ্ন, গণতান্ত্রিক কাঠামোয় থেকে কোনো মুখ্যমন্ত্রী কি এভাবে রাজনৈতিক বিরুদ্ধবাদীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারেন?
রাজ্য রাজনীতির এই টানাপোড়েন এখন নির্বাচন কমিশনের কোর্টে। এখন দেখার, শুভেন্দু অধিকারীর এই নালিশের প্রেক্ষিতে কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়। তবে এই ঘটনা যে আগামী কয়েক দিনের প্রচার পর্বে বারুদ ঢেলে দিল, তা বলাই বাহুল্য।