প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তরবঙ্গ। ভোট প্রচারের শুরুতেই আক্রান্ত হলেন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস। প্রচার চলাকালীন তাঁর কনভয়ে অতর্কিত হামলা এবং তাঁকে দীর্ঘক্ষণ একটি ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিজেপি সূত্রের খবর, মঙ্গলবার কোচবিহার শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন কলাবাগান এবং শুটকাবাড়ি এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে জনসংযোগ সারছিলেন বিজেপি প্রার্থী। অভিযোগ, সেই সময়ই অতর্কিতভাবে তাঁর ওপর চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। প্রার্থীর গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং কর্মীদের লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রার্থীকে নিরাপদ স্থানে সরাতে গেলে তাঁকে একটি ঘরে দীর্ঘক্ষণ বন্দি করে রাখা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে।

এই বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে বিজেপির জোয়ার দেখে ভয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। পরাজয় নিশ্চিত জেনেই এখন সন্ত্রাসকে হাতিয়ার করে বিজেপি প্রার্থীকে আটকানোর মরিয়া চেষ্টা চলছে। হামলায় বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিজেপির জেলা নেতৃত্বের সাফ কথা, “জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে, ভয় দেখিয়ে বা গাড়ি ভেঙে আমাদের গণতান্ত্রিক লড়াইকে স্তব্ধ করা যাবে না।”

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে একজন প্রার্থীর ওপর এই ধরনের আক্রমণ রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে ফের একবার জনসমক্ষে নিয়ে এল। ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছায় এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে।

বিজেপির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এই ঘটনার রিপোর্ট নির্বাচন কমিশন এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের জানানো হয়েছে। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেলা বিজেপি। অন্যদিকে, ভোটারদের মধ্যে এই ঘটনা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। গণতন্ত্রের উৎসবে কেন বারবার রক্তক্ষরণ বা অশান্তির ছায়া ফিরবে, সেই প্রশ্নই এখন কোচবিহারের অলিতে-গলিতে।