প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটের দিন সকালেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল তিলোত্তমার রাজনীতি। ভবানীপুরে নিজের বুথে ভোট দিতে এসে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট দিয়ে বেরিয়েই সাংবাদিকদের সামনে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চলছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী বুথ দখল করে রেখেছে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর গলায় সবথেকে বেশি উদ্বেগের সুর শোনা যায় নিজের এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে। তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, “আমার পাড়ায় ঢুকে মা-বোনেদের মারা হয়েছে। এমন পরিস্থিতি আগে কখনও হয়নি। দুঃখের সাথে বলছি, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি এমন ভোট দেখিনি।” অনেক জায়গা থেকে দলীয় এজেন্ট ও প্রার্থীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

কলকাতা পুলিশের একাধিক থানার ওসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কাল রাত থেকে আমাদের অনেককে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। নদিয়া, হুগলির আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট এবং পুরো ক্যানিংয়ে মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে।” নিজের বুথের দিকে নির্দেশ করে তিনি আরও বলেন, “দেখুন এখানে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোথাও রাজ্য পুলিশ নেই। বাহিনী বুথ দখল করে রেখেছে। ওদের কাজ সীমান্তে সুরক্ষা দেওয়া, ভোটারদের ভয় দেখানো নয়।”

ভোটের পরিবেশ দেখে হতাশ মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে। তাঁর কথায়, “আমি এমন গণতন্ত্র কোথাও দেখিনি। যেখানে সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।” নির্বাচনী আবহে খোদ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। একদিকে তৃণমূল যখন এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করছে, অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই মুখ্যমন্ত্রী এখন অভিযোগের পাহাড় সাজাচ্ছেন। এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের জেরে ভোটের দিনের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।