প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- এতদিন ধরে প্রতিনিয়ত রাজ্য বিজেপির সভাপতি দাবি করে আসছিলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে নিজে রাজ্যে আসতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ বাদেও ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্যে এসআইআর চলছে। কিন্তু কোথাও এত অশান্তি হচ্ছে না। তাই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিজে এসে রাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখুন বলেই দাবি জানিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। অবশেষে নিজের ফুল বেঞ্চকে নিয়ে রাজ্যে এসেছেন জ্ঞানেশ কুমার। যেদিন এসেছেন, সেদিনও তাকে কালো পতাকা এবং গো ব্যাক স্লোগান শুনতে হয়েছে। এমনকি গতকাল তিনি যখন কালীঘাট মন্দিরে গিয়েছেন, সেখানেও তাকে কিছু মানুষ গো ব্যাক স্লোগান এবং কালো পতাকা দেখিয়েছেন। আর বাংলার যে পরিস্থিতি, এবার আশা করি এই সমস্ত কিছু দেখার পর তিনি তা উপলব্ধি করতে পারবেন বলেই মন্তব্য করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর যেভাবে হুমকি, যেভাবে ভয় দেখানো, যেভাবে ফর্ম সেভেন কেড়ে নেওয়ার কাজ চলছে, তাতে দেশের আর কোনো রাজ্যে এই পরিস্থিতি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যতিক্রম শুধুমাত্র বাংলা। তাই বাংলায় কিভাবে ভোট করানো হয়, বাংলায় কিভাবে সন্ত্রাস চলে, তা ভোটের আগে এই এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় নিজে থেকেই এসে দেখা উচিত দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের। দীর্ঘদিন ধরেই এই দাবি তুলে আসছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। অবশেষে গতকাল সেই জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যে এসেছেন। তিনিও বেশ কিছু বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছেন। আর সেই বিষয়টিকে হাতিয়ার করেই এবার রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বুঝিয়ে দিলেন, তারা ঠিক কি কারণে এই জ্ঞানেশ কুমারকে পশ্চিমবঙ্গে আসতে বলছিলেন। তার একটাই কারণ। কারণ, তিনি নিজে এসে উপলব্ধি করুন যে, বাংলায় কি চলছে। আর নিজেও যখন তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়লেন, তখন তিনি এবার বুঝতে পারবেন যে, বাংলায় কিভাবে ভয় দেখানোর কাজ করে এই রাজ্যের শাসক দল।
এদিন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পরপর বিক্ষোভ এবং কালো পতাকা দেখানো নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করা হয়। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে যে ভাষা ব্যবহার করছে, রাষ্ট্রপতিকে মিটিং করতে দিচ্ছে না। তাহলে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে এই সমস্ত কিছু তো হবেই। এই জন্যই আমরা প্রথম দিন থেকে বলছি যে, আপনি কলকাতায় আসুন। কোন পরিস্থিতিতে এসআইআর চলছে, আপনি সরেজমিনে দেখে যান। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এই সমস্ত জায়গায় যান। আশা করি, কি পরিস্থিতি, এবার তা জ্ঞানেশ কুমার বাবু এবার বুঝতে পারবেন।”