প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রেশন দুর্নীতি মামলা এবং জেলফেরত নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বঙ্গ রাজনীতি। উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় এক নির্বাচনী জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁর দলের অন্যতম হেভিওয়েট নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (বালু)-কে কেবল ‘হিংসা’র বশবর্তী হয়েই গ্রেফতার করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর এই সাফাই ঘিরে ইতিমধ্যেই বিরোধী শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিন জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক নাকি রাজ্যের ‘সেরা ও কর্মঠ’ মন্ত্রী ছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ তোলেন যে, বাম আমলে প্রায় ১.৫ কোটি ভুয়ো রেশন কার্ড ছিল এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সেই দুর্নীতি ধরে ফেলেছিলেন বলেই তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পাল্টা যুক্তি দিচ্ছে বিরোধী শিবির। বিজেপি নেতৃত্বের প্রশ্ন, “যদি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক নির্দোষই হন, তবে ইডি-র দীর্ঘ তদন্ত এবং চার্জশিটে তাঁর বিরুদ্ধে এত কোটি টাকার দুর্নীতির নথির উল্লেখ কেন? কেনই বা তাঁকে মাসের পর মাস জেল খাটতে হলো?”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত একজন নেতার হয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর এই দরাজ সার্টিফিকেট আসলে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, রেশন দুর্নীতিতে তৃণমূলের নিচুতলা থেকে ওপরতলা পর্যন্ত যোগসূত্র স্পষ্ট। সেই কারণেই কি এখন ভিকটিম কার্ড খেলে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে শাসক দল? প্রশ্ন উঠছে, বালুকে নির্দোষ প্রমাণের এই মরিয়া চেষ্টা কি আসলে দলের ভেতরে ফাটল ঢাকার কৌশল?

উল্লেখ্য, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক রেশন দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। বর্তমানে তিনি আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্ত থাকলেও মামলাটি এখনও বিচারাধীন। এই অবস্থায় বিচারাধীন কোনও ব্যক্তিকে ‘সেরা’ তকমা দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে সরব হয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশও।

হাবড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূল ফের জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে প্রার্থী করায় এলাকার মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, “জনগণ আর বোকা নেই। চুরির বিচার মানুষ ইভিএমেই দেবে।” অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আসন্ন নির্বাচনে রেশন দুর্নীতিই হতে চলেছে অন্যতম প্রধান ইস্যু।