প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যখন পায়ের তলা থেকে ক্রমশ মাটি সরছে, তখন কি হারের আতঙ্কেই অবাস্তব স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? বৃহস্পতিবার পাণ্ডবেশ্বরের লাউদোহা ফুটবল ময়দানের জনসভা থেকে তাঁর এক অদ্ভুত দাবি ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে হাসির রোল। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের অগাস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নাকি দিল্লি থেকে মোদী সরকার বিদায় নেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিশ্চিত পরাজয় জেনে এখন কর্মীদের চাঙ্গা করতেই ‘জ্যোতিষীর’ মতো সময়সীমা বেঁধে দিচ্ছেন মমতা।

এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করেছেন, তা নিয়ে সরব হয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিজেপি নাকি গায়ের জোর দেখাচ্ছে এবং কোনও নিয়ম মানছে না। কিন্তু পাল্টা প্রশ্ন উঠছে, গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গে বিরোধীদের ওপর যে অকথ্য অত্যাচার, ভোট লুঠ এবং ছাপ্পা ভোটের সংস্কৃতি তৃণমূল কায়েম করেছে, তার পরে মমতার মুখে ‘আইন মানার’ কথা কি মানায়? নিজের ভাষণে তিনি বলেন, “ধর্ম বলে যদি কিছু থাকে, তবে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।” পর্যবেক্ষকদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে কয়লা ও গরু পাচার কাণ্ডে যখন তাঁর দলের একের পর এক হেভিওয়েট নেতা শ্রীঘরে ছিলেন, তখন ‘ধর্মের কল’ কার দিকে নড়ছে, তা সাধারণ মানুষ ভালোই বুঝতে পারছেন।

পাণ্ডবেশ্বরের সভা থেকে ভোটার তালিকা (SIR) নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে অভিযোগ তুলেছেন, তাকে ‘হারের আগাম অজুহাত’ হিসেবেই দেখছে বিজেপি শিবির। তিনি দাবি করেছেন, বিরোধীদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিগত দিনের নির্বাচনের ফলের পর মুখ্যমন্ত্রী বুঝে গিয়েছেন যে মানুষ আর তৃণমূলের ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ হিসেবে থাকতে চাইছে না। তাই আগেভাগেই নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে পরাজয়ের দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন তিনি। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি এমন অনাস্থা প্রদর্শন আসলে তাঁর রাজনৈতিক দেউলিয়া পনারই বহিঃপ্রকাশ।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে এদিন ফের সেই পুরনো ‘দেখে নেওয়ার’ সুর শোনা গিয়েছে। তিনি সরাসরি আক্রমণাত্মক সুরে বলেছেন, যারা আজ বিজেপির হয়ে দালালি করে বেড়াচ্ছে বা মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে, তাদের তিনি দেখে নেবেন। একজন সাংবিধানিক পদে বসে সরাসরি প্রশাসনিক আধিকারিক বা রাজনৈতিক বিরোধীদের এভাবে হুমকি দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, হার নিশ্চিত বুঝেই তিনি এখন ‘ভয়’ দেখিয়ে কর্মীদের ধরে রাখার শেষ চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাংলার মানুষ যে আর এই হুমকির রাজনীতিতে ভয় পায় না, তার প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক একাধিক নির্বাচনে।

সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বন্ধ হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু শিল্পশূন্য বাংলা, বেকার যুবকদের ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়া এবং কয়লা খনি অঞ্চলে ধস ও পানীয় জলের সমস্যার সমাধান নিয়ে তাঁর কাছে কোনও সদুত্তর ছিল না। অন্ডাল বিমানবন্দর বা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের যে খতিয়ান তিনি দিয়েছেন, তার আসল দশা ওই এলাকার মানুষ হারে হারে টের পাচ্ছেন। আসলে উন্নয়নের ভাঁড়ে মা ভবানী বলেই এখন তিনি ২০২৬ সালে ‘দিল্লি দখলের’ দিবাস্বপ্ন ফেরি করছেন বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

সব মিলিয়ে, পাণ্ডবেশ্বরের সভা থেকে মমতার এই বিতর্কিত ও হাস্যকর ভবিষ্যদ্বাণী তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকেই প্রকট করে তুলেছে। যে নেত্রী নিজের রাজ্য সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাঁর মুখে দিল্লি দখলের হুঙ্কার এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসির খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে।