প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ বাড়ার সাথে সাথেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ফের প্রকাশ্যে এল। মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত রায়দিঘি ও বাসন্তী এলাকায় নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে গত ২৬ মার্চ ২০২৬ ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিজেপি প্রার্থীর কনভয়ে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর এবং কর্মীদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রায়দিঘি বিধানসভা এলাকায় দলীয় কর্মসূচি শেষ করে ফিরছিলেন বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানা। অভিযোগ, কৃষ্ণচন্দ্রপুর অঞ্চলের একটি রাস্তায় তাঁর কনভয় পৌঁছালে একদল দুষ্কৃতী অতর্কিতে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, রাস্তায় ওত পেতে থাকা দুষ্কৃতীরা প্রার্থীর গাড়ি লক্ষ্য করে ইঁট ও পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। এই হামলায় পলাশ রানার ব্যক্তিগত গাড়ির পেছনের এবং পাশের কাঁচ চুরমার হয়ে যায়। গাড়ির ভেতরে থাকা বেশ কয়েকজন কর্মী ইঁটের আঘাতে চোট পেয়েছেন। প্রার্থীর নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত তৎপর হওয়ায় বড়সড় কোনো শারীরিক আঘাত থেকে রক্ষা পান তিনি। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, পরিকল্পিতভাবে প্রার্থীকে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল।

মথুরাপুরের এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ওই দিনই সংলগ্ন বাসন্তী এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। সেখানে বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সরদারের সমর্থনে একটি প্রচার মিছিল চলাকালীন তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উত্তেজিত জনতার রোষের মুখে পড়ে পুলিশ প্রশাসন। ইঁট-বৃষ্টির ফলে এক সাব-ইন্সপেক্টর সহ অন্তত ৭-৮ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকে বাসন্তী ও রায়দিঘি সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানা বলেন, “গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়াই করার ক্ষমতা হারিয়েছে শাসকদল। তাই তারা এখন হিংসার আশ্রয় নিচ্ছে। আমাদের প্রচার রুখতে প্রার্থীর ওপর সরাসরি আক্রমণ করা হচ্ছে।” বিজেপি জেলা কমিটি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এবং নির্বাচন কমিশনকে ভিডিও ফুটেজ সহ বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠিয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের একাংশের নিস্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়েই দুষ্কৃতীরা এই সাহস পাচ্ছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব এই সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, এটি বিজেপির আদি ও নব্য গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের বহিঃপ্রকাশ। এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনো যোগ নেই। বর্তমানে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ বাড়ানো হয়েছে যাতে সাধারণ ভোটাররা নির্ভয়ে থাকতে পারেন।