প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দুর্গাপূজার মুখে কলকাতার হরিদেবপুরের নামী পূজা কমিটি ‘অজেয় সংহতি’র ভেতরে এক চাঞ্চল্যকর ও হিংসাত্মক হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। রবিবার রাতে ক্লাবের ভেতরে ঢুকে পূজা কমিটির কনভেনার তথা ১১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব সভাপতি অরিজিৎ নন্দীকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। মারধরের সেই সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল হয়েছে। ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ক্লাবের সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করারও অভিযোগ এনেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে আক্রান্ত তৃণমূল যুব সভাপতি অরিজিৎ নন্দী ক্লাবের ভেতরেই ছিলেন। তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, আচমকাই একদল দুষ্কৃতী ক্লাবের ভেতরে ঢুকে তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। এই হামলার পেছনে সরাসরি বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছে আক্রান্ত নেতার অনুগামীরা। ঘটনার পরই ইমেল মারফত হরিদেবপুর থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

তৃণমূলের তোলা এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব তথা বেহালা পূর্বের বিধায়ক শঙ্কর সিকদার এই ঘটনা প্রসঙ্গে স্পষ্ট জানান, এই মারধরের সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। পাল্টা দাবি করে বিধায়ক জানান, “পূজা কমিটির ওই কনভেনার ক্লাবে বসে রাতে মদ্যপান করছিলেন। ওটা আসলে তৃণমূলের নিজস্ব গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল, এর সাথে বিজেপি কোনোভাবেই জড়িত নয়।” দুর্গাপূজার কমিটির নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই এই মারামারি বলে দাবি পদ্ম শিবিরের।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতের এই ঘটনার পর থেকেই হরিদেবপুর থানার পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। পূজার ঠিক মুখে কলকাতার একটি নামী পূজা কমিটির ভেতরে এমন রক্তক্ষয়ী হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।