প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
ভোটের নির্ঘণ্ট বেজে গিয়েছে অনেক আগেই, কিন্তু হরিণঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রে এবার যা ঘটতে চলেছে, তা বোধহয় অতি বড় রাজনৈতিক পণ্ডিতরাও কল্পনা করতে পারেননি। লড়াই কি শুধু ব্যালট বাক্সে হবে, নাকি তার আগেই আইনি মারপ্যাঁচে বড়সড় ধাক্কা খেতে চলেছে রাজ্যের শাসক দল? বিজেপি প্রার্থী অসীম সরকারের একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে হরিণঘাটার অলিতে-গলিতে। দিল্লির নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে সেই চিঠির পৌঁছনোর খবরে রীতিমত তোলপাড় শুরু হয়েছে।

আসল রহস্যটা ঠিক কোথায়?হরিণঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রটি তফশিলি জাতির (SC) জন্য সংরক্ষিত। নিয়ম অনুযায়ী, এই আসনে লড়তে গেলে প্রার্থীকে অবশ্যই তফশিলি জাতিভুক্ত হতে হয়। কিন্তু বিজেপি প্রার্থী তথা বিশিষ্ট লোকগায়ক অসীম সরকারের বিস্ফোরক দাবি, তৃণমূল প্রার্থী রাজীব বিশ্বাস যে জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate) জমা দিয়েছেন, তাতে বড়সড় ‘অসঙ্গতি’ রয়েছে। সরাসরি অভিযোগ তুলে অসীম সরকার জানিয়েছেন, রাজীব বিশ্বাস আসলে তফশিলি জাতিভুক্ত নন। সংরক্ষিত আসনের সুবিধা নিতে তিনি কি তবে জাল নথির সাহায্য নিয়েছেন? কমিশনের কাছে পাঠানো চিঠিতে এই প্রশ্নই তুলেছেন বিজেপি প্রার্থী।

অসীম সরকারের কথায়, “গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা সবচেয়ে বড় কথা। যদি নথিতেই জালিয়াতি থাকে, তবে সেই প্রার্থীর জনসেবা করার নৈতিক অধিকার কোথায়?” গেরুয়া শিবিরের দাবি, নথিপত্র খতিয়ে দেখে অবিলম্বে রাজীব বিশ্বাসের প্রার্থীপদ বাতিল করা হোক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। বিজেপি কর্মীরা ইতিমধ্যেই বলতে শুরু করেছেন, হারের ভয়ে তৃণমূল কি তবে ভুল পথের আশ্রয় নিচ্ছে?

এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও দলীয় স্তরে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। তৃণমূলের পাল্টা দাবি, অসীম সরকার লড়াইয়ে সুবিধা করতে না পেরেই এমন ভিত্তিহীন কুৎসা ছড়াচ্ছেন। সমস্ত নথিপত্র আইন মেনেই জমা দেওয়া হয়েছে বলে তাদের দাবি।

এখন সব নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে। যদি অসীম সরকারের দেওয়া তথ্য ও প্রমাণের সত্যতা মেলে, তবে কি সত্যিই বাতিল হতে পারে রাজীব বিশ্বাসের প্রার্থীপদ? সংরক্ষিত আসনের সম্মান কি রক্ষা পাবে? নাকি সবটাই রাজনৈতিক চাপানউতোর হিসেবেই শেষ হবে? দিল্লির সবুজ সংকেত বা লাল সংকেতের ওপর এখন ঝুলে রয়েছে হরিণঘাটার ভবিষ্যৎ।প্রতি মুহূর্তের আপডেটের জন্য নজর রাখুন আমাদের পোর্টালে।