প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-“বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কি কখনো ছাত্র ভোট হয়? তাহলে সরকারি কলেজে কেন হবে?”—রাজ্যের সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন বোমা ফাটালেন নবনিযুক্ত উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। রাজ্য রাজনীতি এবং শিক্ষামহলে তীব্র সুনামি আছড়ে ফেলা এই মন্তব্যের পাশাপাশি মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর রাজনীতির আখড়া বানাতে দেওয়া হবে না। ক্যাম্পাসে সমস্ত রকম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সরব হয়েছিল একাধিক ছাত্র সংগঠন। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এখনই রাজ্যে ছাত্রভোট করানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। উল্টে তাঁর বিস্ফোরক দাবি, বিগত বছরগুলোতে ভুল নীতির কারণে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছে। ‘কলেজে এখন আর ছাত্র কোথায় যে ছাত্রভোট হবে!’—মন্ত্রীর এই একটি মন্তব্যেই এখন তোলপাড় গোটা রাজ্য।

সরকারের স্পষ্ট অবস্থান, প্রথম লক্ষ্য হলো শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ ও পঠনপাঠনের উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে এনে আবার পড়ুয়াদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। পরিকাঠামো ঠিক হলে নিয়ম মেনে যথাসময়ে ছাত্রভোটের কথা ভাবা যাবে, তার আগে কোনো তাড়াহুড়ো নয়।উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের কড়া হুঁশিয়ারি, গত কয়েক দশক ধরে বাংলার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যেভাবে একচেটিয়া রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, সেই সংস্কৃতির এবার চিরতরে অবসান ঘটবে। শিক্ষাঙ্গন থাকবে শুধুমাত্র পড়াশোনার জন্য, সেখানে কোনো দলের দাদাগিরি, জুলুমবাজি বা ইউনিয়নবাজি বরদাস্ত করা হবে না। বেসরকারি নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে শৃঙ্খলা বজায় রেখে কোনো রাজনৈতিক ভোট ছাড়াই মসৃণভাবে চলে, সরকারি বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলোতেও পড়াশোনার সেই সুস্থ কর্পোরেট পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ভোটের পাশাপাশি কলেজের পরিচালন সমিতি বা গভর্নিং বডি (Governing Body) গঠন নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কলেজের পরিচালনা ব্যবস্থা নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো তাড়াহুড়ো বা বড়সড় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার শুদ্ধিকরণ করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উচ্চশিক্ষা দফতরকে সম্পূর্ণ “দুর্নীতিমুক্ত ও রাজনীতিমুক্ত” করার যে কঠোর অবস্থান মন্ত্রী নিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত তারই বড় প্রমাণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।