প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরু হওয়ার একদম প্রথম দিন থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস এর বিরোধিতা করে আসছে। এমনকি এসআইআর যখন চলছে, তখন তারা সব থেকে বেশি মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজনকে ভয় দেখাতে শুরু করেছিল। তারা দাবি করতে শুরু করেছিল যে, এসআইআর করে হিন্দুদের নামও প্রচুর বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। কারণ তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাই তারা হিন্দুদের নাম বাদ দিচ্ছে। তবে প্রথম দিন থেকেই বিজেপির একদম নিচুতলা থেকে শুরু করে উপর তলার শীর্ষ নেতারা প্রত্যেকেই বলে এসেছেন, যারা ওপার বাংলা থেকে শরণার্থী হিসেবে হিন্দুরা এপারে এসেছেন, তাদের প্রত্যেকের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে সিএএর মাধ্যমে। এক্ষেত্রে প্রত্যেককে সিএএতে আবেদন করার বার্তাও দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্বরা। আর তখনই তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিএএতে আবেদন করলেই নাকি তাকে আবার দেশছাড়া করা হবে। তবে তৃণমূলের এই প্রচার যে একেবারেই মিথ্যা, সিএএর মাধ্যমে যে হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা নিজের লোকসভার কথা তুলে ধরে প্রমাণ দিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

এই রাজ্যের বুকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম দিন থেকেই ভাঁওতাবাজি এবং মিথ্যা নিয়ে রাজনীতি করে। তারা বুঝতে পারছে, তারা আর ক্ষমতায় আসবে না। তাই সিএএকে এনআরসি বলে এতদিন প্রচার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই প্রচারে যারা কান দিয়েছিলেন, তারা কতটা নিজেদের ক্ষতি করেছেন, তা এখন সকলেই বুঝতে পারছেন। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দলের নেতা নেত্রীরা সিএএকে এনআরসি বলে যতই ভুল প্রচার করুক, এটা যে আসলে হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার একটা বিষয়, তা এবার দিনের আলোর মত স্পষ্ট হয়ে গেল। ধীরে ধীরে যারা আশঙ্কায় ছিলেন যে, ওপার বাংলা থেকে যে সমস্ত হিন্দুরা এপারে শরণার্থী হিসেবে এসেছেন, তাদের আবার ওপারে ফিরে যেতে হবে, তাদের সেই আশঙ্কা এবার দূরীভূত হতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে যারা সিএএতে আবেদন করেছিলেন, তাদের একে একে নাগরিকত্ব প্রদান করা হচ্ছে। আর সেই কথা তুলে ধরেই তৃণমূল এতদিন যেভাবে দিয়ে সিএএকে এনআরসি বলে যে মিথ্যে প্রচার করেছিল, তাকে কার্যত খণ্ডন করে দিলেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার আর সেখানেই তিনি বলেন, “বিজেপি হোক বা তৃণমূল, যে কারও নামই এই বিচারাধীনের তালিকায় থাকতে পারে। সেখানে ফর্ম ফিলাপ করে সকলকে জমা দিতে হবে। আর যারা হিন্দু উদ্বাস্তু আছেন, তাদের সিএএতে আবেদন করতে হবে। আমার নিজের লোকসভায় একটি অঞ্চলে একসাথে গতকাল ৭৬ জন সিএএ পেয়েছেন। সিএএতে ৯০ হাজার মানুষ আবেদন করেছেন। আমার মনে হয়, এর মধ্যে ৯০ শতাংশ মানুষ সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাবেন।”