প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
সম্প্রতি কয়লা কাণ্ডে তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি প্রতীক জৈনের বাড়িতে এবং আইপ্যাকের অফিসে পৌঁছে যায়। কিন্তু সেখানে তারা তল্লাশি চালানোর সময় হঠাৎ করেই প্রথমে সেই প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে গিয়ে বেশ কিছু ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, তার দলের গোপন তথ্য নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। পরবর্তীতে তিনি আইপ্যাকের অফিসেও পৌঁছে যান। আর এই ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে যে, মুখ্যমন্ত্রী কি করে একটি প্রশাসনিক পদে থেকে তিনি এইভাবে তদন্তে বাধা দিলেন? কেন সেইখান থেকে তিনি কাগজপত্র নিয়ে চলে এলেন? কেন তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না? ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে এই ব্যাপারে মামলা উঠলেও হই হট্টগোলের জেরে সেই মামলা শুনানি ছেড়ে চলে যান বিচারপতি। আগামী ১৪ তারিখ সেই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন রয়েছে। তবে এর মধ্যেই এবার রাজ্যের অস্বস্তি বাড়িয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে গেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি।
প্রসঙ্গত, আইপ্যাকের অফিসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশি চালানোর দিন সেখানে যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং যেভাবে তিনি একটি সবুজ ফাইল হাতে নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন, সেই ঘটনার পর থেকেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। অনেকে আবার বলতে শুরু করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে কেন্দ্রীয় সংস্থা বাধা দিলো না বা তার বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত পদক্ষেপ হলো না, তার একটাই কারণ। কারণ, ওপর তলায় সেটিং রয়েছে। তবে সেই সমস্ত সেটিংয়ের বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যেই এবার খারিজ হয়ে গেল। যে কাজ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক পদে থেকে করেছেন, তা যে করা যায় না, সেই ব্যাপারে এতদিন সোচ্চার ছিলো বিরোধীরা। আর এবার গোটা ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে গেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সূত্রের খবর, এদিন সুপ্রিম কোর্টে ইডির পক্ষ থেকে তিনজন আধিকারিক এই দুটো পিটিশন দায়ের করেন। যেখানে পার্টি করা হয়েছে রাজ্য সরকার, রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজীব কুমার এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাকে। এছাড়াও আরও এক প্রশাসনিক কর্তাকে এই মামলায় পার্টি করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আর এই খবর সামনে আসার পরেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, যারা এতদিন ভাবছিলেন যে, কিছুই হবে না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ হবে না, তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অবশেষে খোলস ছেড়ে বের হতে শুরু করেছে। এবার তারা যেভাবে একেবারে শীর্ষ আদালতে পৌঁছে গেলেন এবং সেখানে জোড়া পিটিশন দায়ের করা হলো, তার পরিপ্রেক্ষিতে এবার আদালত কি নির্দেশ দেয়, তা অবশ্যই দেখার বিষয়। তবে ইডির এই পদক্ষেপে যে রাজ্য সরকারের ঘুম উড়তে শুরু করবে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।