প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- গতকাল গোটা দেশের নজর ছিলো সুপ্রিম কোর্টের দিকে। কারণ সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা হলফনামা তৈরি করলেও তারা অফিসিয়ালি ফাইল তৈরি করতে পারেনি বলে সেই মামলার শুনানি যাতে পিছিয়ে যায়, তার জন্য আবেদন করেন। যার ফলে আবার সেই মামলার শুনানি পিছিয়ে গিয়েছে। অনেকে বলছেন, ইডি হয়ত নিজেই এই মামলা নিয়ে সিরিয়াস নয়। তাছাড়া কেন তারা গতকালের এই সুবর্ণ সুযোগ মিস করে দিলো? কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাপে রাখার ক্ষেত্রে তারা গতকালই এই মামলার শুনানি করার ক্ষেত্রে তৎপরতা দেখালো না? আর এই পরিস্থিতিতে যখন আবার মামলার শুনানি পিছিয়ে গেল, তখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠলেও ইডি যে একেবারে আটঘাট বেঁধেই পথে নেমেছে এবং সঠিক পথেই চলছে, তা জানিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে এক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত অভিমত কি এবং কিভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক্ষেত্রে জব্দ করা উচিত, তার ফর্মুলাও সামনে আনলেন তিনি।
এই রাজ্যের বুকে সকলেই দেখেছেন যে, কিভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে বিভিন্ন তদন্তের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হয়। এর আগেও শেখ শাহজাহানের ওখানে তদন্তকারী সংস্থা গেলে সেখানেও তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর সম্প্রতি আইপ্যাক অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে যখন কেন্দ্রীয় সংস্থা তল্লাশি চালাচ্ছে, তখন সেখানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে তথ্য এবং মোবাইল ফোন পর্যন্ত চুরি করে এনেছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে, তা নিয়ে তার শাস্তির দাবি করছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা পর্যন্ত আদালতে পৌঁছে গিয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে গতকাল যখন শুনানি আবার পিছিয়ে গেল, তখন অনেকেই হতাশ হয়ে গেলেন। তবে সেই ব্যাপারেই এবার নিজের অভিমত প্রকাশ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
এদিন এই ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “ঠিক করছে। আটঘাট বেঁধে করছে। ইডির স্ট্র্যাটেজি কি, আমি জানি না। তবে আমি মনে করি, এই বাংলার একজন নাগরিক হিসেবে এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমি চাই, যখন পুলিশ মমতা ব্যানার্জির হাতে থাকবে না, এমন সময় তদন্ত হওয়া উচিত। নইলে আবার তদন্তকারীদের ওপর আক্রমণ করবে। শুধু মমতা ব্যানার্জি নিজে আক্রমণ করতে যাননি। তার সঙ্গে রাজীব কুমার, মনোজ বর্মা এবং বিধান নগরের মুকেশ ছিলেন। আর যার বিরুদ্ধে এফআইআরে নাম রয়েছে, তিনিও ছিলেন। এখন যদি আপনি তদন্ত করতে আসেন, মমতা ব্যানার্জি আবার সুপ্রতিম সরকার এবং পীযূষ পান্ডেকে নিয়ে আবার হামলা করবেন। কাজেই সময় কথা বলবে। আমার মনে হয়েছে, আইনি লড়াইতে আঁটঘাট বেঁধেই ইডি এগোচ্ছে। আমরা আশাবাদী।”