প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভার পর এবার লোকসভার সংসদীয় দলেও ঐতিহাসিক ভাঙন। বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এবার বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। আজ পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পৌরোহিত্যে আয়োজিত হাইপ্রোফাইল মেগা প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে দেখা গেল ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব) এবং মেদিনীপুরের তৃণমূল সাংসদ। সঙ্গে ছিলেন কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা এবং খড়্গপুরের দীনেন রায়ও।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, গত কয়েকদিনে তৃণমূলের অন্দরে যে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে, আজ কোলাঘাটের এই বৈঠক তারই এক বড় প্রতিফলন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সরকারের উন্নয়ন নীতির সামনে কার্যত নতিস্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছেন একের পর এক তৃণমূল জনপ্রতিনিধি—এমনটাই দাবি করছে গেরুয়া শিবির।

তৃণমূলের অন্দরের খবর, সম্প্রতি বাংলায় শাসনক্ষমতা পরিবর্তনের পর দলটিতে প্রথম বার এমন ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিধানসভায় দলের ৫৮ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়ক ইতিমধ্যেই সম্পর্ক ছিন্ন করে পৃথক গোষ্ঠী তৈরি করেছেন এবং বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। স্পিকার রথীন্দ্র বোসও বিদ্রোহীদের আলাদা আইনসভা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু ভাঙনের ক্ষত এখানেই শেষ নয়! গতকালই তৃণমূলের সংসদীয় দলেও চরম বিস্ফোরণ ঘটেছে। বর্ষীয়ান নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে লোকসভার ২০ জন তৃণমূল সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে লোকসভায় সম্পূর্ণ আলাদা ব্লক হিসেবে বসার দাবি জানিয়েছেন এবং এনডিএ (NDA) জোটকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেছেন। এই বিপুল গণ-বিদ্রোহের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আজ মেদিনীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীল মঞ্চে দেব এবং জুনের সশরীরে হাজিরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এতে দলবদলের জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই মেদিনীপুর এবং ঘাটাল এলাকার মানুষ অভিযোগ করছিলেন যে, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্রের পাঠানো টাকা ঠিকঠাক ব্যবহার হয়নি। আজ কোলাঘাটের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি বসে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান ও বন্যা কবলিত এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় দেব ও জুন মালিয়াকে। বিজেপি শিবিরের দাবি, তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়কেরা খুব ভালো করেই জানেন যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ ছাড়া এই তিন জেলায় প্রশাসনিক স্তরে কোনো কাজ হওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভার এই গণ-বিদ্রোহ তৃণমূলকে চূড়ান্ত ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। ফলে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও এলাকার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই আজ দেব-জুনরা শুভেন্দুর বৈঠকে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বৈঠকে যোগ দিয়ে তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা “জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করার” তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা করলেও রাজনৈতিক মহলের বড় অংশ একে সাধারণ ‘সৌজন্য’ বলে মানতে নারাজ। বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, “তৃণমূলের তাসের ঘর পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। দেব-জুনরাও ভালো করেই বুঝে গেছেন যে শুভেন্দুর হাত ধরেই আগামী দিনে বাংলার আসল উন্নয়ন সম্ভব।”