প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক দিন আগে আজ শুক্রবার দক্ষিণ কলকাতার রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আজ ভোরে খাস কলকাতার রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক দেবাশিস কুমারের বাসভবন ও নির্বাচনী কার্যালয়ে অতর্কিতে তল্লাশি শুরু করল আয়কর দফতর (Income Tax Department)। নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই ‘হাই-ভোল্টেজ’ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে প্রবল চাপানউতোর।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ শুক্রবার ভোর ৬টা নাগাদ প্রায় ১০-১২টি গাড়ির একটি কনভয় নিয়ে আয়কর আধিকারিকদের একটি বিশেষ দল দক্ষিণ কলকাতার মনোহরপুকুর রোডে দেবাশিস কুমারের বাসভবনে পৌঁছায়। আধিকারিকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল একটি দল। বাসভবনের পাশাপাশি প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আরও কয়েকজনের ঠিকানাতেও একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর।

সূত্রের দাবি, প্রার্থীর নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণের সঙ্গে গত কয়েক বছরের আয়কর রিটার্নের তথ্যে বেশ কিছু অসংগতি ধরা পড়েছে। এছাড়াও, নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন বড় অঙ্কের সন্দেহজনক নগদ লেনদেনের নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতেই আয়কর আইন অনুযায়ী এই হানা দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং আইনি কারণে আধিকারিকরা সংবাদমাধ্যমের কাছে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি।

তল্লাশির খবর জানাজানি হতেই প্রার্থীর বাড়ির সামনে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড় বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শয়ে শয়ে সমর্থক জড়ো হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার’ অভিযোগ তুলে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এক সময় এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হিমশিম খেতে হয়। কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, নির্বাচনের আগে প্রার্থীর ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই পরিকল্পনা করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

এই অভিযান নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “বিজেপি পরাজয় নিশ্চিত জেনেই এখন ইডি-সিবিআই এবং আয়কর দফতরকে দিয়ে রাজনৈতিক লড়াই লড়তে চাইছে। বাংলার মানুষ এর যোগ্য জবাব ব্যালট বক্সে দেবে।”

অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এবং আইনি তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করছে। যদি কারও কাছে লুকানোর কিছু না থাকে, তবে তদন্তে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত, দেবাশিস কুমারের বাড়ির ভেতরে তল্লাশি প্রক্রিয়া এখনো জারি রয়েছে। আয়কর আধিকারিকরা বাড়ির বিভিন্ন আলমারি, নথিপত্র এবং ডিজিটাল ডিভাইস খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্য এবং দপ্তরের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নির্বাচনী নির্ঘণ্ট চলাকালীন এই হানা ভোটারদের মনে কীরূপ প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।