প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- ইতিমধ্যেই কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক যিনি কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গিয়েছিলেন বিজেপিতে, সেই বিষ্নুপ্রসাদ শর্মা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। অনুপ্রাণিত মিডিয়া এমনভাবে খবর করতে শুরু করেছিল, যেন বিষ্নুপ্রসাদ শর্মার যোগদানে বিজেপি নামক দলটা উঠে যাবে। কিন্তু বাস্তবে এই ব্যক্তির যে বিন্দুমাত্র গ্রহণযোগ্যতা নেই, তা গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে তার লড়াই এবং ফলাফলের মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। যার ফলে একদিক থেকে বিজেপি নিশ্চিন্ত হয়েছে যে, ভোটের আগে জঞ্জালগুলো অন্তত তৃণমূল কংগ্রেসে চলে যাচ্ছে। কিন্তু এবার আজ ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে যে চিত্র দেখা গেল, তারপর বিভিন্ন মহলে আশা এবং আশঙ্কার দোলাচল তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কি হবে, তা সময় বলবে। কিন্তু যে গতি প্রকৃতি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তাতে হয়ত বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজও এবার যেতে পারেন তৃণমূলের সঙ্গে। অন্তত আজকের যে চিত্র সামনে এসেছে, তারপর তেমনটাই জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল যখন বুঝে নিয়েছে যে, তারা আর ক্ষমতায় আসছে না, তখন তারা এখন যোগদান পর্ব শুরু করেছে। আর কাদের কাদের তারা যোগদান করাচ্ছে? বিরোধীদলের মধ্যে যারা কার্যত অপ্রাসঙ্গিক,যাদের নাম গন্ধ বলতে কিছু নেই, যারা বিন্দুমাত্র ভোট পাবে না, যাদের নিজস্ব জনপ্রিয়তা নেই, তাদেরকেই বেছে বেছে দলে নিচ্ছে এই রাজ্যের শাসক দল। কারণ যাদের জনপ্রিয়তা আছে, তারা তো আর যাই হোক, তৃণমূলের মত ওই ডুবন্ত জাহাজে গিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে না। তাই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার মত ব্যক্তি সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের যোগদান করেছিলেন। আর আজ দেশপ্রিয় পার্কে ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে দেখা গেল বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজকে। যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক মঞ্চে ছিলেন তিনি। আর এই ছবি সামনে আসার পরেই রীতিমত জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চে গিয়েছেন, তখন তিনিও হয়ত বিজেপি ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হবেন। কিন্তু এই অনন্ত মহারাজকে নিয়ে কি আদৌ কোনো লাভ হবে তৃণমূল কংগ্রেসের? এখন অনেকে বলতে পারেন, তৃণমূলের কি লাভ হবে, সেটা তো পরের কথা। কিন্তু বিজেপির কি ক্ষতি হবে, সেটা বিজেপি আগে ভেবে দেখুক। আর এখানেই বিজেপির ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, অনন্ত মহারাজ মাঝেমধ্যেই বিজেপির সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা দলের বিরুদ্ধে যায়। ফলে এইরকম একজন ব্যক্তি যদি মনে করেন যে, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করবেন, তাহলে তিনি করতেই পারেন। কিন্তু তার নিজস্ব ভোটব্যাংক বলে যে আদৌ কিছু নেই এবং এই সমস্ত বিজেপিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদেরই যে তৃণমূল কংগ্রেস এখন দলে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তা বোঝাই যাচ্ছে। ফলে রাজ্য রাজনীতিতে এখন তৃণমূল প্রচারের আলোয় আসার জন্য বিরোধীদল থেকে অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের দলে নিয়ে যদি ভাবে যে, বড় কিছু করে ফেলবে, তাহলে বিরোধী দল বিজেপির হতাশার কিছু নেই। বরঞ্চ এতে তাদের দলের মধ্যে যে সমস্ত জঞ্জাল ছিলো, তারা ২৬ এর নির্বাচনের আগে তৃণমূলে চলে গেলে আখেরে তাদেরই ভালো হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।