প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গত ১৯ আগস্ট (বুধবার) মাঝরাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের নজিরবিহীন তাণ্ডব, ভাঙচুর এবং অরবিন্দ ভবনে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার ঘটনার পর কেটে গিয়েছে চার দিন। ইতিমধ্যেই ৪ নম্বর গেটের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং মোবাইল ভিডিওর মাধ্যমে হামলাকারীদের একাধিক মুখ সংবাদমাধ্যমের সামনে চলে এসেছে। কলকাতা পুলিশ যাদবপুর থানার অধীনে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করলেও, ঘটনার ৯৬ ঘণ্টা পরও এখনো পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট গ্রেফতারি হয়নি। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে এবং দোষীদের অবিলম্বে শাস্তির দাবিতে আজ, সোমবার (২৪ আগস্ট) নতুন করে উত্তপ্ত হতে চলেছে যাদবপুর।

পুলিশের তদন্তকারী দল জানিয়েছে, তারা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার আইনি প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। তবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লেগে যায়, যা তদন্তের গতি কিছুটা শ্লথ করেছে বলে সূত্রের খবর। এদিকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বুধবার রাত ১২টা ৩৭ মিনিটে লাঠিসোঁটা ও রড হাতে একদল বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা রক্ষীদের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। ভাঙচুরের পর ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ল্যাবরেটরির কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে আজ একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটিও বসাতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে আজ সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনেই দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর চত্বরে পৃথকভাবে মহাপ্রতিবাদের ডাক দিয়েছে দুই যুযুধান ছাত্র শিবির। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনসমূহ (SFI, FETSU, DSO): তাদের অভিযোগ, আরএসএস-অনুমোদিত এবিভিপি ইচ্ছাকৃতভাবে বহিরাগতদের এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করেছে এবং ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংসদকে কালিমালিপ্ত করছে। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং ক্যাম্পাসের সুরক্ষার দাবিতে আজ তারা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে ৮বি বাসস্ট্যান্ড এলাকা পর্যন্ত একটি বড়সড় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে।পাল্টা সুর চড়িয়েছে এবিভিপি-ও। তাদের দাবি, বুধবার সাধারণ সভার (General Body Meeting) নামে ডেকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সম্পাদক ও সদস্যদের নৃশংসভাবে মারধর করেছে বামপন্থীরা। সেই মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে এবং শিক্ষাঙ্গনে বামেদের ‘একচেটিয়া গুন্ডাগিরি’ বন্ধ করার দাবিতে আজ তারাও যাদবপুর থানা এবং ক্যাম্পাস চত্বরে পাল্টা প্রতিরোধ মিছিলের কর্মসূচি নিয়েছে।ক্যাম্পাসে নতুন করে কোনো আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা দুই পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষ রুখতে সকাল থেকেই যাদবপুর থানা সংলগ্ন এলাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটগুলিতে ব্যাপক পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে।