প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক নজিরবিহীন ছাত্র সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় এবার সরাসরি মুখ খুললেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল চত্বরে বহিরাগত হামলা এবং ঐতিহাসিক প্রতীক ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা এবং বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যাদবপুর কেবল একটি সাধারণ প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এ রাজ্যের শিক্ষার উৎকর্ষ কেন্দ্র (Center of Excellence)। সেখানে এই ধরণের বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঘটে যাওয়া এই অনভিপ্রেত হিংসার ঘটনা নিয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে স্বপন দাশগুপ্ত সংবাদমাধ্যমের সামনে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। ঘটনার রাতে দলীয় বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের ১ ঘণ্টার ডেডলাইন এবং বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে যখন চারদিকে সমালোচনা চলছে, তখন দলীয় সতীর্থদের সংযত হওয়ার বার্তা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট বলেন— “আমার মূল্যায়ন হলো, ছাত্রদের সমস্যা ছাত্ররাই মিটিয়ে নিক। রাজনীতিকদের উচিত ছাত্র আন্দোলন থেকে দূরে থাকা এবং এর মধ্যে নাক না গলানো।” বিশেষ করে কিংবদন্তি শিল্পী নন্দলাল বসুর তৈরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক লোগো ও প্রতীক ভাঙার ঘটনাকে ‘ঐতিহ্যের চরম অবমাননা’ বলে তীব্র নিন্দা করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

যাদবপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমান শাসক দল বিজেপির অন্দরের মতপার্থক্যও এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। যেখানে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত সংযম, ঐতিহ্য রক্ষা এবং আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার উৎকর্ষ বজায় রাখার পক্ষে সওয়াল করছেন, সেখানে বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর চড়িয়েছেন। দিলীপ ঘোষ বিস্ফোরক দাবি তুলে বলেছেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশবিরোধীদের আখড়া বানিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে অবিলম্বে কড়া দাওয়াই প্রয়োগ করা দরকার।” দলের দুই শীর্ষ নেতার দুই মেরুর এই বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI) এবং সিপিআইএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য অর্থমন্ত্রীর এই ক্ষোভ প্রকাশ ও মন্তব্যকে স্বাগত জানালেও বিজেপির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ছাড়েননি। সৃজন ভট্টাচার্য পালটা কটাক্ষ করে বলেন, “অর্থমন্ত্রী যদি সত্যিই শিক্ষাঙ্গনের উৎকর্ষ নিয়ে চিন্তিত হন এবং রাজনীতিকদের দূরে থাকার কথা বলেন, তবে নিজের দলের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কেন কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? উনিই তো ঘটনার রাতে ১ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়ে বহিরাগতদের জড়ো করেছিলেন।” পুরো ঘটনাটিতে উচ্চশিক্ষা দফতর অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নজর রাখছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তের কাজ শুরু করেছে।