প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এখনও পর্যন্ত এসআইআরের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। বর্তমানে তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী এবং বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২৮ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। আর তারপরেই যে কোনো মুহূর্তে ঘোষণা হয়ে যাওয়ার কথা। তবে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন থেকেই দাবি করছেন যে, সঠিক সময়ে যদি এসআইআর সম্পূর্ণ না হয়, তাহলে ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে না। আর ভোটার তালিকা প্রকাশ না হলে ভোট ঘোষণা হবে না। আর সঠিক সময় ভোট ঘোষণা না হলে রাজ্যে জারি হয়ে যাবে রাষ্ট্রপতি শাসন। এক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী যেদিনই ভোট ঘোষণা হবে, তার থেকে ভোট হওয়ার মধ্যে ৪৫ দিনের সময় থাকতে হবে। কিন্তু আজ যে সম্ভাবনার খবর সামনে এলো, তাতে মনে করা হচ্ছে যে, হয়ত আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারিও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। আর যদি এটাই হয়, তাহলে ভোটের ঘোষণার দিনও পিছিয়ে যাবে। আর যদি তাই হয়, তাহলে কি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেই রাজ্যে হবে বিধানসভা নির্বাচন? তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তৈরি হয়েছে গুঞ্জন।

ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে বেশ কিছু আপত্তি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে শুনানির পর আদালত বেশ কিছু নির্দেশ দিয়েছিল। স্কুটিনির দিন বাড়িয়ে দিয়েছিল। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তখনই জানিয়ে দেওয়া হয় যে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। তবে আজ যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে সঠিক সময়ে এই এফআইআর সংক্রান্ত কাজ এবং তথ্য যাচাইয়ের কাজ হয়ত শেষ নাও হতে পারে। আর সেই কারণেই নির্বাচন কমিশনের কাছে আয় সময় চাইতে পারে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। আর তা যদি হয়, তাহলে ভোটের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতে অনেকটাই সময় লাগবে এবং নির্বাচন কমিশন যদি সিইও দপ্তরের এই অনুরোধ মেনে নেয়, তাহলে ভোটের তালিকা প্রকাশ হতে যেমন দেরি হবে, ঠিক তেমনই ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতেও দেরি হয়ে যাবে। আর তা যদি এমন একটা পরিস্থিতিতে চলে যায় যে, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে, তবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেই হতে পারে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্রের খবর, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করার ক্ষেত্রে বর্তমানে তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। কিন্তু সিইও দপ্তর মনে করছে যে, সঠিক সময়ে এই তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া যদি শেষ না হয়, তাহলে তারা এই প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে যাতে সময় বৃদ্ধি করা যায়, তার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন যদি সিইও দপ্তরের এই আবেদন মেনে নেয়, তাহলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ হবে না। আর ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে দেরি হলে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতেও দেরি হবে। আর কবে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হচ্ছে, তার ওপরেই পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনে ভোট হবে, নাকি এমনি ভোট হবে, তা নির্ধারণ হবে। ‌স্বাভাবিকভাবেই এখন এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও কতদিন সময় লাগে এবং বর্তমান যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন, তার মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হয়, নাকি আবারও পিছিয়ে যায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।