প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- হুমায়ুন কবীর নতুন দল গঠন করার পর থেকেই শাসক দলের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছেন তিনি। বিজেপি যদিও বা দাবি করছে, এটা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গেমপ্ল্যান। হুমায়ুন কবীরকে দিয়ে সংখ্যালঘু ভোটকে যাতে নিজেদের পক্ষেই রাখা যায়, তার জন্য তৃণমূল তলায় তলায় তার সঙ্গে সেটিং করে নিয়েছে। তবে যে ধরনের ঘটনা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, যেভাবে হুমায়ুন কবীরকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে এই রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন, তাতে অনেকেই বলছেন যে, কোনো সেটিং নেই। বরঞ্চ হুমায়ুন কবীর যেভাবে লড়াই করার ফর্মুলা তৈরি করে ফেলেছেন, যেভাবে সংখ্যালঘুদের ভোট তিনি নিজের দিকে নেওয়ার অংক কষে নিয়েছেন, তাতেই সর্ষে ফুল দেখতে শুরু করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। আর সংখ্যালঘু ভোট না পেলে যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসবে না, তা তারা খুব ভালো মত জানেন। আর সেই জন্যেই হুমায়ুন কবীরকে চাপে রাখতে এবার তার পরিবারকে টার্গেট করেছে তৃণমূল এবং তাদের দলদাস প্রশাসন বলেই দাবি করছেন একাংশ। সম্প্রতি তার মেয়ের শ্বশুর বাড়ির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার খবর সামনে এসেছে। আর এবার সরাসরি হুমায়ুন কবীরের চাপ বাড়িয়ে তার স্ত্রীকে শোকজ নোটিশ পাঠালো ভূমি সংস্কার দপ্তর।
এই রাজ্যের যারা রাজনৈতিক সমীকরণ, তাতে অনেকেই বলছেন যে, এবার তৃণমূলের ক্ষমতায় ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। হিন্দু ভোটকে একত্রিত করার কাজ করছে বিজেপি। আর অন্যদিকে সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসাতে খুব ভালো মতই নতুন দল গঠন করে মিমের সঙ্গে জোট করেই লড়াই করার ফর্মুলা ছুঁকে নিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। আর এই সংখ্যালঘু ভোট না পাওয়ার কারণেই কি আতঙ্কের জন্য এবার হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে প্রতিহিংসামূলক আচরণ শুরু করে দিলো এই রাজ্যের প্রশাসন? প্রশ্নটা তুলছেন বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, হিন্দু ভোটকে তৃণমূল কংগ্রেস আর কাটতে পারবে না। তার সবটাই বিজেপির দিকে যাবে। তবে সংখ্যালঘু ভোট পেয়ে যদি তারা ক্ষমতায় আসতে পারে, সেই কারণেই এখন হুমায়ুনবাবুকে টার্গেট করে তাকে বিরক্ত করে তার পরিবারকে বিপাকে ফেলার ষড়যন্ত্র ছকা হচ্ছে। অন্তত তেমনটাই দাবি করছে বিরোধীরা।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী মিরা সুলতানাকে ভূমি সংস্কার দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কি কারনে এই নোটিশ? যতদূর খবর পাওয়া যাচ্ছে, হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে রেজিনগরে জলাজমি বুজিয়ে বাড়ি তৈরি করার মত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আর সেই কারণেই তাকে ভূমি সংস্কার দপ্তরের পক্ষ থেকে সাত দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আর এখানেই বিরোধীদের প্রশ্ন যে, এতদিন কি তা নজরে আসেনি প্রশাসনের? কেন হুমায়ুন কবীর যখন তৃণমূল থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন দল গঠন করলেন, যখন তিনি সংখ্যালঘুদের একত্রিত করার চেষ্টা করছেন, তখনই তা প্রশাসনের নজরে এলো? তাহলে কি এক্ষেত্রেও প্রতিহিংসা পরায়ন আচরণ করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন? প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক সমালোচকরা।