প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তোলাবাজি, জমি দখল এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার একাধিক গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান ওরফে ‘পুষ্পা’-র মুক্তির দাবিতে ফলতায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হলো। ধৃত এই নেতার মুক্তির দাবিতে তাঁর স্ত্রীর নেতৃত্বে ফলতা থানা ঘেরাও এবং হামলার চেষ্টা চালায় একদল বিক্ষোভকারী। কিন্তু বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি রুখতে মোতায়েন থাকা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) অত্যন্ত কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠি উঁচিয়ে তাড়া এবং কঠোর অবস্থানের মুখে পড়ে কার্যত দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মরক্ষা করতে বাধ্য হয় বিক্ষোভকারীদের একাংশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর খানকে ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিটঙ্কি এলাকা থেকে রাজ্য এসটিএফ ও জেলা পুলিশ যৌথভাবে গ্রেফতার করার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছিল। গ্রেফতারের পর পুলিশ জাহাঙ্গীরকে কোমরে দড়ি বাঁধা এবং হাফপ্যান্ট পরা অবস্থায় ফলতার রাস্তায় হাঁটিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। এমনকি ডায়মন্ড হারবার আদালতের কোনো আইনজীবী জাহাঙ্গীরের পক্ষে সওয়াল করতে রাজি না হওয়ায় আদালত তাকে পুলিশি হেফাজতে পাঠায়। আজ সেই ক্ষোভ থেকেই জাহাঙ্গীরের স্ত্রী স্থানীয় মহিলাদের একটি বড় দলকে সামনে রেখে মিছিল করে ফলতা থানার দিকে রওনা হন। থানার কাছাকাছি পৌঁছে বিক্ষোভকারীরা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করতেই অ্যাকশনে নামে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মুহূর্তের মধ্যে লাঠিচার্জ শুরু হলে রণক্ষেত্র ফাঁকা হয়ে যায় এবং বিক্ষোভ সম্পূর্ণ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।

আইনি জটিলতা এড়াতে এবং নতুন করে কোনো অশান্তি যাতে না ছড়ায়, তার জন্য ফলতা থানা এলাকায় বর্তমানে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী রুট মার্চ করছে। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এলাকায় শান্তিভঙ্গ করার যেকোনো প্রচেষ্টা অত্যন্ত কঠোরভাবে দমন করা হবে।