প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বন্যপ্রাণীকে উদ্ধার করার নামে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অত্যাচারের ছবি ধরা পড়ল জলপাইগুড়িতে। ঘরের ভেতর ঢুকে পড়া একটি বিশালাকার অজগর সাপকে উদ্ধার না করে, উল্টে সেটিকে গলায় পেঁচিয়ে আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠলেন স্থানীয় কিছু বাসিন্দা। শুধু তাই নয়, জ্যান্ত অজগরের সঙ্গে চলল দেদার সেলফি তোলার প্রতিযোগিতাও। এই ঘটনার ভিডিও সামনে আসতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায়। স্থানীয় একটি বাড়িতে আচমকাই ঢুকে পড়ে একটি পেল্লাই সাইজের অজগর সাপ। সাপটিকে দেখে প্রথমে আতঙ্ক ছড়ালেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। বন দফতরে খবর দেওয়া হলেও, উদ্ধারকারীরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় কিছু যুবক সাপটিকে ধরে ফেলেন।এরপরই শুরু হয় আসল তাণ্ডব। সাপটিকে খাঁচাবন্দি বা নিরাপদ দূরত্বে রাখার পরিবর্তে, সেটিকে একে অপরের গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হয়। সেই বিপজ্জনক অবস্থাতেই হাসিমুখে মোবাইল ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে থাকেন যুবকেরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই পরিবেশপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
খবর পেয়ে বন দফতরের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজগরটিকে সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করেন। তবে বন্যপ্রাণের ওপর এমন হেনস্থার ঘটনাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না প্রশাসন। ঘটনা প্রসঙ্গে বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ সাফ জানিয়েছেন, বন্যপ্রাণীর ওপর এই ধরণের অত্যাচার ও হেনস্থা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি বন দফতরের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন বিষয়টিকে খতিয়ে দেখে দ্রুত কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, অজগর শান্ত প্রকৃতির মনে হলেও, তীব্র উত্তেজনার মুখে পড়ে সেটি যেকোনো সময় আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারত। অজগরের পেশিশক্তি এতটাই বেশি যে মানুষের গলায় তা পেঁচিয়ে ধরলে শ্বাসরোধ হয়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। সামান্য কিছু লাইক বা সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের লোভে এই ধরণের খামখেয়ালিপনা নিজের ও বন্যপ্রাণের—উভয়ের জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর।