প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বাংলার নির্বাচনী রণক্ষেত্রে এবার কি তবে সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের রক্ত ঝরানোর ছক কষা হচ্ছে? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক কিছু বিস্ফোরক মন্তব্যের পর এই প্রশ্নই এখন রাজ্যের আকাশে-বাতাসে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সরাসরি অভিযোগ—তৃণমূল নেত্রী আর রাজনৈতিক লড়াইয়ে কুলিয়ে উঠতে না পেরে এবার মা-বোনেদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অশান্তির আগুন জ্বালাতে চাইছেন।মঙ্গলবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে গিয়ে মমতার বিরুদ্ধে রীতিমত ‘প্রমাণ’ সহ নালিশ ঠুকে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিলেন শুভেন্দু।

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নির্বাচনী জনসভাগুলোতে প্রকাশ্যেই রাজ্যের মহিলাদের প্ররোচনা দিচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি মা-বোনেদের নির্দেশ দিচ্ছেন—ভোটের ডিউটিতে আসা কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর (CAPF) জওয়ানরা যদি বুথের ধারেকাছে আসে, তবে যেন তাঁরা হাতা, খুন্তি নিয়ে তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। শুভেন্দুর তীক্ষ্ণ প্রশ্ন, “একজন সাংবিধানিক পদে বসে থাকা মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে উর্দিধারী জওয়ানদের ওপর মহিলাদের লেলিয়ে দেওয়ার নিদান দেন? এটা কি সরাসরি গণতন্ত্রের ওপর এক প্রকার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ নয়? নাকি হারের ভয়ে দিশেহারা হয়ে তিনি গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছেন?”

এদিন অভিযোগ কেবল মৌখিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন শমীক ভট্টাচার্যও। তাঁরা কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছেন দুটি অতি চাঞ্চল্যকর ভিডিও ক্লিপ এবং একটি তথ্যসমৃদ্ধ পেনড্রাইভ। শুভেন্দুর দাবি, ওই ভিডিওগুলোতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে এবং শোনা যাচ্ছে যে মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে জওয়ানদের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধ’ গড়ে তোলার নামে আসলে হিংসার বীজ বপন করছেন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন হাতা-খুন্তি নিয়ে বেরিয়ে আসতে। এর মানে কী? তিনি কি চান নির্বাচনের দিন বুথে বুথে জওয়ানদের ওপর হামলা হোক? তিনি কি আবারও শীতলকুচির মত কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছেন?”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনী বুথে থাকলে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়া নিশ্চিত। আর সম্ভবত সেই কারণেই বাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতে এই ধরনের ‘হাতা-খুন্তি’ দাওয়াই দিচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, এই মন্তব্য কেবল উস্কানিমূলক নয়, বরং এটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। জওয়ানদের মনে ভয়ের সৃষ্টি করা এবং তাঁদের কাজে বাধা দেওয়ার এই নিদান নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। বিরোধী শিবিরের সাফ কথা, “যিনি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দেন, তিনি আসলে আইনের শাসনকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন।”

বিজেপির এই জোরালো আক্রমণের লক্ষ্য এখন একটাই—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারের ওপর অবিলম্বে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা। শুভেন্দু অধিকারীর যুক্তি অত্যন্ত কড়া। তাঁর মতে, যে নেত্রী প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে হিংসার উস্কানি দেন এবং জওয়ানদের মারার পরামর্শ দেন, তাঁকে অবাধে প্রচার করতে দেওয়া মানেই সাধারণ মানুষের এবং ভোট কর্মীদের নিরাপত্তা চরম বিপন্ন করা। কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে বিজেপি দাবি করেছে, মমতার এই ‘বিষাক্ত’ ভাষণগুলি রাজ্যের নির্বাচনী পরিবেশকে বিষিয়ে দিচ্ছে, তাই অবিলম্বে তাঁকে প্রচারের ময়দান থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক।

বিরোধী শিবিরের এই নজিরবিহীন এবং তথ্যপ্রমাণ সহ আক্রমণের সামনে তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বিষয়টিকে হালকা করার চেষ্টা করছে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের দাবি, শুভেন্দুর পেশ করা ‘ভিডিও বোমা’ ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে। হাতা-খুন্তির রূপক দিয়ে যে হিংসার বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা হয়েছিল, তা এখন বুমেরাং হয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ঘাড়েই চেপে বসেছে। এখন দেখার, এই শক্তিশালী তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কী কড়া পদক্ষেপ নেয়। নাকি হাতা-খুন্তির এই ‘জিহাদি দাওয়াই’ বাংলার বুথে বুথে জওয়ানদের নিরাপত্তার জন্য বড়সড় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়? গোটা রাজ্য এখন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।