প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এমনিতেই তো এই রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া কাজ করছে। তার মধ্যে নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে নারী নির্যাতন, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানুষ অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছে এই সরকারের বিরুদ্ধে। তারা সুযোগ পেলেই এবার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। আর যেভাবে এফআইআর হয়েছে, তাতে তৃণমূল এবার ক্ষমতায় যে টিকে থাকবে না, তা তারাও বুঝতে পারছে। আর সেই কারণে হিন্দু ভোট যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে যাবে না, তা বুঝতে পেরে বিজেপি শাসিত রাজ্যে হিন্দুরাও নিরাপদ নন, এমনকি বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও চেষ্টা করছেন, হিন্দুদের ভোটকে ভাগ করে দেওয়ার এবং সেই ভোট ভাগ হয়ে গেলে তার ক্ষমতায় আসার পথ অনেকটাই প্রশস্ত হবে, এমনটাই তিনি ভেবে নিয়েছেন। কিন্তু তার এই ধরনের বরাবরের যে খেলা, এবার সেটা সকলেই ধরে ফেলেছেন। আর তাই হিন্দুদের মধ্যে বিভক্ত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে এবার আর জিততে পারবেন না এবং তার কোনো কারসাজি যে এবার কাজে দেবে না, তা স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে হিন্দুরা যে একত্রিত হয়ে বিজেপির দিকেই সমর্থন করবেন, এটা একবাক্যে ধরে নেওয়াই যায়। এবার আর হিন্দুদের মধ্যে কোনো সংশয় নেই। কারণ তারা খুব ভালো মতই জানে যে, তৃণমূল সরকার যদি আবার ক্ষমতায় আসে, তাহলে তাদের আচার অনুষ্ঠান পালন করতে অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কারণ বিজেপি নেতারা এই প্রচার করতে সমর্থ হয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে হিন্দুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হচ্ছে, তাতে আগামী দিন পশ্চিমবঙ্গ পশ্চিম বাংলাদেশ হয়ে যাবে। তাই বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে এবং নিজের ধর্ম রক্ষা করতে এবার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে হিন্দুরা একত্রিত হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই রায় দেবে, তাতে একপ্রকার নিশ্চিত বিশেষজ্ঞরাও। আর এটা বুঝতে পেরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন হিন্দুদের মধ্যেও বিভক্ত করার একটা সূক্ষ্ম রাজনীতি করতে শুরু করেছেন। কিন্তু তাতেও যে কোনো লাভ হবে না, আজ ভবানীপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সেই খেলা ধরে ফেললেন শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “কোনো লাভ হবে না। এবারে হিন্দুরা বিভক্ত হবে না। কোনো রাষ্ট্রবাদী হিন্দুরা এবার বিভক্ত হবে না। আমরা শুরু করি ভারতমাতা দিয়ে, শেষ করি ভারতমাতা দিয়ে। উনি যে চক্কর করছেন, সেই চক্করে এবার হিন্দুরা পড়বে না। ওনার আমলে সে গুজরাটের হিন্দু হোক, মহারাষ্ট্রের হিন্দু হোক, উত্তরপ্রদেশের হিন্দু হোক বা বাঙালি হিন্দু হোক, কেউ ভালো নেই। কারও বাড়িতে চাকরি নেই, শিল্প নেই। হাহাকার অবস্থা।”