প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যে বেকার যুবকদের সমস্যা যে সবথেকে বড় সমস্যা এবং এই একটা সমস্যার কারণেই যে তৃণমূল সরকারকে এবার চলে যেতে হতে পারে, তা খুব ভালো মত করেই উপলব্ধি করেছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কারণে ১৫ আগস্ট থেকে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা ঢোকানোর ঘোষণা প্রথমে করা হলেও, পরবর্তীতে তিনি আবার তা এগিয়ে এনেছেন। গতকাল তিনি চলতি মাসের ১৫ থেকে ২৬ তারিখের মধ্যে প্রত্যেকটি বিধানসভায় ক্যাম্প করে আগামী এপ্রিল মাস থেকেই এই টাকা দেওয়ার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন। যদিও বা তার সারবত্তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, ১৫ বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে থাকার পরেও যে সমস্ত শূন্য পদ রয়েছে, তা পূরণ না করে যেভাবে তারা সামান্য ভাতা দিয়ে বেকার যুবকদের মেরুদন্ড ভেঙে দিতে চাইছে, এবার তার পরিপ্রেক্ষিতে এই যুবসাথী ক্যাম্প যেখানে যেখানে হচ্ছে, সেখানেই বেকার যুবকদের বড় প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ উপায়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে চিঠি লিখে বেকারদের যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করার পরামর্শ দিলেন তিনি।
সম্প্রতি রাজ্য বাজেটে যে যুব সাথী প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে, তার ফলে বেকার যুবকদের মধ্যেও একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, তৃণমূল সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন এই রাজ্যে চাকরি হবে না। কেননা তারা বুঝতে পারছে যে, তাদের ক্ষমতায় আসা অত্যন্ত কঠিন। তারপরেও তারা যখন চাকরির পথ না খুঁজে ওই সামান্য দেড় হাজার টাকা ভাতা দিচ্ছে ভোটের আগেই, ফলে এরা ক্ষমতায় টিকে গেলে যে ভাতা ছাড়া আর কোনো চাকরি দেবে না, এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে সকলের কাছে। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী গতকাল আবার ভোট পাওয়ার জন্যই অবস্থা বেগতিক বুঝে সেই যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধে পয়লা এপ্রিল থেকে দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রত্যেকটি বিধানসভায় একটি করে ক্যাম্প করার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে যেখানে যেখানে সেই ক্যাম্প হবে, সেখানেই বেকার যুবকরা মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে চিঠি লিখে সমস্যার কথা জানাবেন বলেই পরামর্শ দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুভেন্দু অধিকারী প্রতিমুহূর্তে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চাপে রাখছেন। প্রত্যেকটি পদক্ষেপের পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন, বিজেপি এবার কোনোমতেই ছেড়ে কথা বলবে না। শুভেন্দুবাবু খুব ভালো মতই বুঝতে পারছেন, রাজ্যের বেকার যুবক যুবতীদের সমস্যা সব থেকে প্রবল। আর সেই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই তাদের ভোট পাওয়ার জন্য এই সমস্ত দেড় হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার চেষ্টা করুন না কেন, ভাতা দিয়ে যে সংসার চলে না, সেই বিষয়টি যুব সমাজের মনের মধ্যে খুব ভালো করেই ঢুকিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। এক্ষেত্রে যেখানে যেখানে এই যুবসাথীর ক্যাম্প হবে, সেখানেই পাল্টা প্রতিবাদ স্বরূপ যে সমস্ত শুন্য পদ রয়েছে রাজ্যে, সেক্ষেত্রে নিয়োগের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে তা জমা করার যে বার্তা শুভেন্দুবাবু দিলেন, তাতে পাল্টা চাপে পড়ে যেতে পারে রাজ্য সরকার বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।