প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আজ, ৩১ মার্চ ২০২৬, দলীয় সদর দপ্তর থেকে বহু প্রতীক্ষিত চতুর্থ দফার প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। ১৩ জন প্রার্থীর এই তালিকায় অভিজ্ঞতার সাথে তারুণ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছে পদ্ম-শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গে আঘাত হানতে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রণকৌশল সাজিয়েছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব।

বিজেপির এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে কলকাতার চৌরঙ্গি কেন্দ্রের নাম। সেখানে বর্ষীয়ান এবং জনভিত্তি সম্পন্ন নেতা সন্তোষ পাঠককে প্রার্থী করে বিজেপি বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা শহর কলকাতার প্রতিটি ইঞ্চিতে লড়াই করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, সোনারপুর উত্তর কেন্দ্রে দেবাশিস ধর এবং সিতাই কেন্দ্রে আশুতোষ বর্মার মত লড়াকু ব্যক্তিত্বদের ওপর ভরসা রাখা হয়েছে। প্রতিটি নাম ঘোষণার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট এলাকার বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিজেপি যে নিচুতলার কর্মীদের আবেগ এবং সাধারণ মানুষের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়, তার প্রমাণ মিলেছে ময়নাগুড়ি (SC) আসনে। সেখানে কৌশিক রায়ের পরিবর্তে ডালিম রায়কে প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে। দলের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, বিজেপি কেবল নির্বাচন জিততেই নয়, বরং মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে মর্যাদা দিতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া নাটাবাড়ি, বাগদা, হাওড়া দক্ষিণ এবং বারাবনির মত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতেও এমন মুখদের বেছে নেওয়া হয়েছে, যাদের এলাকায় স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আজ যে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছেন, তাঁদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১ চৌরঙ্গি সন্তোষ পাঠক
২ সোনারপুর উত্তর দেবাশিস ধর
৩ সিতাই আশুতোষ বর্মা
৪ নাটাবাড়ি গিরিজাশঙ্কর রায়
৫ বাগদা সোমা ঠাকুর
৬ হাওড়া দক্ষিণ শ্যামল হাতী
৭ ফালটা দেবাংশু পান্ডা
৮ মগরাহাট পূর্ব উত্তমকুমার বণিক
৯ গারবেতা প্রদীপ লোধা
১০ পাঁচলা রঞ্জন কুমার পাল
১১ চণ্ডীপুর পীযূষকান্তি দাস
১২ মেমারি মানব গুহ
১৩ বারাবনি অরিজিৎ রায়

আজকের এই ঘোষণার পর বিজেপি এখনও পর্যন্ত মোট ২৮৭টি আসনে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করল। বাকি ৭টি আসনের নামও খুব দ্রুত ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছেন, “আমাদের লক্ষ্য কেবল ক্ষমতা দখল নয়, বরং বাংলাকে সোনার বাংলা হিসেবে পুনর্গঠন করা। এই প্রার্থীরাই হবেন সেই পরিবর্তনের কারিগর।”

আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে বাংলায়। আর ৪ঠা মে ফলাফল ঘোষণার দিন বাংলার মানুষ এক নতুন ভোরের সাক্ষী থাকবে—এমনটাই মনে করছেন বিজেপির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আজ থেকেই প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগ ও প্রচারের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। সর্বত্রই একটাই সুর— “এবার লক্ষ্য বাংলা বিজয়”।