প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
চোর ধরো জেল ভরো স্লোগানে যখন তপ্ত রাজ্য রাজনীতি, ঠিক তখনই খোদ শাসক দলের অন্দর থেকেই বেরিয়ে এলো এক ভয়ঙ্কর সত্য! দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার ‘পুরস্কার’ হিসেবে কি জোড়াফুলের টিকিট খোয়াতে হলো বলাগড়ের বিদায়ী বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীকে? প্রার্থী তালিকায় নাম না থাকতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করে কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন এই লড়াকু সাহিত্যিক-বিধায়ক।
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই মনোরঞ্জনবাবু স্পষ্ট লিখেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রম ঘাম রক্ত দিয়ে গড়ে তোলা দল। ওনার দলে উনি কাকে টিকিট দেবেন, আর কাকে দেবেন না, সেটা একান্তই ওনার ব্যক্তিগত বিষয়।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘ওনার দল’ এবং ‘ব্যক্তিগত বিষয়’ শব্দবন্ধের আড়ালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্য ও দলে গণতন্ত্রহীনতাকেই কটাক্ষ করেছেন তিনি। আর সবচেয়ে বড় বোমাটি ফেটেছে তাঁর পোস্টের পরের অংশে।মনোরঞ্জনবাবু সরাসরি স্বীকার করেছেন যে, তিনি এলাকায় বালি মাফিয়া, মাটি মাফিয়া, গরু ও গাঁজা পাচারকারী এবং রেশন চোরদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। পাড়ায় পাড়ায় চলা জুয়ার ঠেক বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এই মাফিয়ারাজের বিরুদ্ধে লড়াই করাটাই তৃণমূলের চোখে অপরাধ? মাফিয়াদের স্বার্থ রক্ষা করতেই কি তাঁর টিকিট কাটা হলো? এই ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তায় অস্বস্তিতে কালীঘাট থেকে ক্যামাক স্ট্রিট।
বিদায়ী বিধায়কের গলায় ঝরে পড়েছে আক্ষেপ ও অভিমান। ২০২১-এর নির্বাচনের আগে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দুর্নীতি করলে মানুষ যেন তাঁকে থুতু দিয়ে ডুবিয়ে মারে। এদিন গর্বের সাথে তিনি লিখেছেন, “কেউ আমার দিকে থুতু ছোড়েননি।” অর্থাৎ, যে দলে দুর্নীতিই শেষ কথা, সেখানে সততার দাম যে নেই, তা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন মনোরঞ্জন। বিধায়কের দাবি, টিকিট যে পাবেন না, তা তিনি অনেক আগেই বুঝেছিলেন। কারণ, চোর ও মাফিয়াদের রাজত্বে তাঁর মত মানুষের যে জায়গা নেই, তা হয়ত আগেই আঁচ করেছিলেন তিনি। এখন প্রশ্ন হলো, টিকিট হারিয়ে কি তবে এবার ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে চূড়ান্ত বিচ্ছেদের পথে মনোরঞ্জন ব্যাপারী? যে দুর্নীতির সিন্ডিকেটের পর্দা তিনি ফাঁস করলেন, তার জবাব কি দিতে পারবেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব? বলাগড়ের জল এখন কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।