প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
প্রথমে ঠিক ছিলো, রাজ্য বাজেটে যে ১৫ আগস্ট থেকে এই যুবসাথী প্রকল্প, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার তার বাজেটে নতুন করে ঘোষণা করেছেন, সেই প্রকল্প চালু হবে। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি গতকাল নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, পয়লা এপ্রিল থেকে এই প্রকল্পের টাকা ঢোকার কাজ শুরু হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে চলতি মাসের ১৫ তারিখ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত একটি ক্যাম্প করবে রাজ্য সরকার। প্রত্যেকটি বিধানসভায় সেই ক্যাম্প করে সেখানে ফর্ম জমা নেওয়া হবে। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষনার পরেই যে প্রশ্নটা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তুলে দিলেন, তা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। এক্ষেত্রে এই রাজ্যে কাজ না পেয়ে যে সমস্ত বেকার যুবকরা অন্য রাজ্যে গিয়ে বর্তমানে কাজ করছেন, তারা যদি এই প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করতে এই রাজ্যে ফিরে আসেন, তাহলে তাদের যে খরচ হবে ট্রেন ভাড়া বাবদ, সেই খরচটা কে দেবে?
অনেকে বলছেন, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একবার যে ঘোষণা করেন, সেই ঘোষণা থেকে তিনি পিছিয়ে আসেন না। এটাই তার পরম্পরা। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি যে ঘোষণা রাজ্য বাজেটে করলেন যে, আগস্ট মাস থেকে যুব সাথী প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে, সেই ঘোষণা থেকে তিনি পিছিয়ে এসে আগেভাগেই টাকা দেওয়ার কথা হঠাৎ করে ঘোষণা করলেন কেন? তাহলে কি তিনি বুঝতে পারছেন যে, তার সরকার ক্ষমতায় থাকবে না? আর সেই কারণেই বেকার যুবকদের যন্ত্রণার রিপোর্ট কার্ড তার কাছে পৌঁছেছে জন্যেই তিনি এই প্রকল্পের টাকা আগেভাগে ঢোকানোর জন্য তড়িঘড়ি ক্যাম্প করে বেকার যুবকদের ভোট পাওয়ার একটা পরিকল্পনা ছকে নিয়েছেন? গতকালের সাংবাদিক বৈঠক থেকে সেই আভাস দেওয়ার পাশাপাশি ভিন রাজ্যে থাকা কাজ করা পরিযায়ী শ্রমিকদের আসার ক্ষেত্রে যে খরচ হবে সেই খরচ কে মেটাবে? সেই প্রশ্নও তুলে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “আজ যেটা করেছেন, এটা ঘোরতর অন্যায়। প্রথমত ৬০-৭০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক আছে, তাদের মধ্যে যারা মাধ্যমিক পাস ৪০ বছরের নিচে, কম করে ২০০০ টাকা খরচ করে ট্রেনে তাদের আসতে হবে। এই টাকা কে দেবে?” আর এখানেই সকলে বলছেন যে, যুক্তিসঙ্গত কথাই তো তুলে ধরেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তাহলে সেই সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করুক রাজ্য সরকার। আর যদি তাদের এই প্রকল্পের টাকা পেতেই হয় এবং তাদের যদি রাজ্যে আসতে এই টাকা খরচ হয়, তাহলে সেই টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করুক রাজ্য। কারণ প্রকল্প যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়েছেন, তখন সেই প্রকল্পের সুবিধে কেন অন্য রাজ্যে গিয়ে কাজ করা মাধ্যমিক পাস ৪০ বছরের মধ্যে থাকা ব্যক্তিরা পাবেন না? ফলে তাদের এই রাজ্যে সেই যদি ফর্ম ফিলাপ করতে হয়, তাহলে যে খরচ হবে, সেই খরচ মেটানোর দায়িত্ব নিতে হবে রাজ্য সরকারকেই বলে দাবি বিরোধীদের।