প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের একবার বড়সড় ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে! হামিদুল রহমান, সন্দীপন এবং শিউলি সাহার পর এবার রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বীরভূমের দাপুটে নেতা তথা হাসন বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কাজল শেখ। দলবদলের তীব্র গুঞ্জনের মধ্যে আজ বুধবার বিধানসভা চত্বরে এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখল রাজনৈতিক মহল। পুজোর পর আজ বিধানসভায় আয়োজিত অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) বিজয়া সম্মিলনীতে আচমকাই উপস্থিত হন ঋতব্রত-পন্থী (বিদ্রোহী ঋত শিবির) বিধায়ক কাজল শেখ। সেখানে সকলের নজর কেড়ে মমতা-তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে মিষ্টি মুখ করেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টে জোড়াফুল প্রতীক ও দলের নাম কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে যখন দু’পক্ষের আইনি লড়াই তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিরোধী শিবিরের এই মিষ্টি-মুখের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

ক্যামেরার সামনে এই মিষ্টি খাওয়াকে নিছকই ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন স্বয়ং কাজল শেখ। বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদ থেকে কয়েকমাস আগেই ইস্তফা দেওয়া এই নেতার দাবি, প্রবীণ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে জানিয়েছেন, কাজল শেখ যদি মূল স্রোতের তৃণমূলে ফিরতে চান, তবে তাঁকে স্বাগত।

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষ। বিরোধী শিবিরের দিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি দাবি করেছেন, “ঋত শিবিরের বহু বিধায়কের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে, জাস্ট দেখতে থাকুন কী হয়!” কুণালের এই মন্তব্যেই পরিষ্কার যে, পুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় এক বিরাট রাজনৈতিক পালাবদল বা ‘ঘর-ওয়াপসি’-র চিত্রনাট্য তৈরি হয়ে গিয়েছে।