প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রবিবার ছুটির দিনে রাজ্য রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল এক মহাপ্রলয়। ভোট মিটতেই তৃণমূল শিবিরের অন্দরের জমাট বাঁধা বারুদ যে এভাবে ফেটে পড়বে, তা হয়তো অতিবড় রাজনৈতিক বোদ্ধাও কল্পনা করতে পারেননি। মে মাসের এই তপ্ত রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় তৃণমূলের এক হেভিওয়েট নারীশক্তির আকস্মিক পদত্যাগ এবং সেই সঙ্গে দলেরই এক প্রভাবশালী মহলের ‘প্রিয়’ এজেন্সিকে নিয়ে করা চরম বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে এখন তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এই ঘটনায় তৃণমূলের অস্বস্তি এক ধাক্কায় কয়েক গুণ বেড়ে গেল।

দলীয় সূত্রের খবর, বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে আচমকাই ইস্তফা দিয়েছেন দলের অত্যন্ত পরিচিত মুখ এবং প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর কাছে পাঠানো তাঁর সেই ইস্তফাপত্রটি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শুধু পদত্যাগই নয়, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা এবং সামাজিক মাধ্যমে ‘হাল ধরো নেত্রী’ বলে করা আকুতি ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ফাটলকেই যেন আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দিল বলে মনে করছে বিরোধী শিবির।

তৃণমূলের অন্দরের খবর, ইস্তফাপত্রে নাম না করে এক ভোটকুশলী সংস্থাকে (আইপ্যাক) যেভাবে ‘ভুঁইফোঁড়’ বলে তোপ দেগেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ভাড়াটে এজেন্সি দিয়ে যে দল চালানো যায় না এবং পুরনো, সৎ কর্মীদের সম্মান না দিলে যে সংগঠনের ক্ষতি হয়— সেই চরম সত্যটাই এবার দলের অন্দরের এক প্রভাবশালী মুখ স্পষ্ট করে দিলেন। এর পাশাপাশি, সাম্প্রতিক কিছু প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও অপরাধমূলক ঘটনা নিয়েও ক্ষোভের ইঙ্গিত মিলেছে, যা তৃণমূলকে চরম বিড়ম্বনায় ফেলেছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করাচ্ছেন, সম্প্রতি লোকসভায় দলের ‘চিফ হুইপ’ বা মুখ্য সচেতকের পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দলের প্রতি অনুগত থাকার পর এই ‘অপসারণ’ তিনি ভালোভাবে নেননি, তা তাঁর সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টেই স্পষ্ট ছিল। আর এবার জেলা সভাপতির পদ ছেড়ে দিয়ে তিনি যে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিলেন, তা বলাই বাহুল্য। দলীয় স্তরে এটিকে নির্বাচনের পর ‘নৈতিক দায়’ নেওয়ার তত্ত্ব দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করা হলেও, ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ইস্তফা আসলে এক বিরাট বিদ্রোহের ইঙ্গিত।

রাজনৈতিক শিবিরের দাবি, বহিরাগত এজেন্সির দাপট এবং পুরনোদের কোণঠাসা করার যে অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি তুলে আসছিল, আজ তৃণমূল দলের খাস তালুকের সাংসদের কলমেই যেন তার সিলমোহর পড়ে গেল। এখন দেখার, এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে কালীঘাট কী পদক্ষেপ করে।