প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মঙ্গলবার কালীঘাট মন্দিরের চাতালে যখন পা রাখলেন হিমাচলের ‘কুইন’ তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত, তখন কেবল ঢাকের আওয়াজ নয়, যেন বঙ্গ রাজনীতির পরিবর্তনের ঘণ্টা বেজে উঠল। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পরেই কলকাতা সফরের প্রথম দিনেই কঙ্গনা যা করলেন, তাতে কার্যত কালঘাম ছুটতে শুরু করেছে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে। মা কালীর পায়ে জবা আর নকুলেশ্বর ভৈরবকে সাক্ষী রেখে কঙ্গনা আজ যে ‘শক্তির উপাসনা’র ডাক দিলেন, তা কি নবান্নের মসনদ টলিয়ে দেওয়ার প্রথম ধাপ?

মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে বেরনোর সময় কঙ্গনার চোখেমুখে ছিল এক অদ্ভুত তেজ। নিজেকে বরাবরই ‘শক্তির উপাসক’ দাবি করা এই অভিনেত্রী-সাংসদ আজ যেন রণচণ্ডী মূর্তিতে ধরা দিলেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করেননি। সরাসরি জানালেন, তিনি আজ শুধু নিজের জন্য আসেননি, এসেছেন ‘বাংলার মেয়েদের’ আর্তি নিয়ে। কঙ্গনার কথায়, “আজ কালীমায়ের ডাক পেয়ে চলে এলাম। আমি গোটা দেশের মঙ্গল চেয়েছি ঠিকই, কিন্তু বিশেষ করে প্রার্থনা করেছি বাংলার মেয়েদের জন্য। মা কালী যেন তাদের উদ্ধার করেন, তারা যেন এবার ন্যায়বিচার পায়।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কঙ্গনার এই একটি শব্দই তৃণমূলের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজ্যে নারী নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক একাধিক বিতর্কিত ঘটনার দিকে আঙুল তুলেই কি তিনি ‘উদ্ধার’ শব্দটির প্রয়োগ করলেন? কঙ্গনা বুঝিয়ে দিলেন, বাংলার নারীশক্তি আজ বিপন্ন এবং একমাত্র আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমেই তাদের মুক্তি সম্ভব। এই মন্তব্য কি আদতে রাজ্যের বর্তমান শাসনের অবসানের ইঙ্গিত?

আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির ফল কেমন হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে কঙ্গনা কোনো রাখঢাক করেননি। তাঁর আত্মবিশ্বাসী চাউনি আর মায়ের আশীর্বাদ নেওয়ার ভঙ্গিই বলে দিচ্ছিল, ২০২৬-এর নীল নকশা তৈরি। সরাসরি ভোটপ্রচারের কথা না বললেও, তিনি সাফ জানিয়েছেন যে তিনি চান বাংলার জনগণের কল্যাণ হোক এবং বিজেপি যেন দুর্দান্ত ফল করে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, কঙ্গনা আজ কোনো মন্তব্য করেননি ঠিকই, কিন্তু তাঁর উপস্থিতিতে যে জনজোয়ার দেখা গিয়েছে, তা শাসকদলের জন্য বড় ‘সিগন্যাল’।

বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, কঙ্গনার এই সফরের টাইমিং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন বাংলায় নির্বাচনের প্রচার জোরকদমে, আর এসআইআর নিয়ে কান্নাকাটি চলছে, তখন কঙ্গনার এই সোজাসাপ্টা আক্রমণ বিরোধীদের কার্যত কোণঠাসা করে দিয়েছে। তিনি সাফ বুঝিয়ে দিয়েছেন, লড়াইটা হবে এবার সেয়ানে সেয়ানে। বাংলার মা-বোনেদের ওপর ঘটা অন্যায়ের বিচার চাইতে এবার খোদ ‘শক্তির উপাসক’ ময়দানে নেমে পড়েছেন।

সব মিলিয়ে, কালীঘাটের পুজো দিয়ে কঙ্গনা আজ যে আগ্নেয়গিরির সলতে পাকিয়ে দিলেন, তার বিস্ফোরণ ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে কতটা ভয়াবহ হবে, সেটাই এখন দেখার। বাংলার রাজনীতিতে কি তবে এবার সত্যিই কোনো ‘মহাপ্রলয়’ আসতে চলেছে? উত্তরটা হয়তো সময়ের গর্ভেই লুকনো, কিন্তু কঙ্গনার আজকের তেজ সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।