প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-খোদ কলকাতার বুকেই যেন এক সমান্তরাল সাম্রাজ্য! সাধারণ মানুষের মাথার ওপর ছাদটুকু বজায় রাখার নামে দিনের পর দিন চলত কোটি কোটি টাকার দেদার জুলুমবাজি। এবার বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক কালীঘাটে। কাঠগড়ায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আপন ভাই এবং তাঁদের ক্লাব ‘কালীঘাট মিলন সঙ্ঘ’। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রবিবার সকাল থেকে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

দীর্ঘদিন ধরে আদি গঙ্গার তীরবর্তী কলকাতা বন্দরের (Kolkata Port Trust) জমিতে প্রায় ৮০ থেকে ১০০টি দুঃস্থ পরিবার বসবাস করছেন। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ওই ঝুপড়িবাসীদের ওপর শুরু হয় রাজকীয় জুলুম। এলাকায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ার বিনিময়ে ঘর পিছু প্রতি মাসে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক আদায় করা হতো।

টাকা নেওয়ার পর বাসিন্দাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হতো ‘কালীঘাট মিলন সঙ্ঘ’-এর রসিদ বা স্লিপ। টাকা না দিলে ঘরছাড়া করার প্রচ্ছন্ন হুমকিও দেওয়া হতো বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।এই তোলাবাজির জাল কতটা গভীরে বিস্তৃত, তা প্রকাশ পেয়েছে খোদ ভুক্তভোগী বস্তিবাসীদের বয়ানে। এলাকার এক বাসিন্দা ক্যামেরার সামনে সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “আমরা এই টাকা সরাসরি মমতাদির ভাই ষষ্ঠী বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিতাম। ক্লাবের প্যাডে ভাড়া নিয়ে যাওয়া হতো। কখনও উনি নিজে আসতেন, আবার কখনও লোক পাঠাতেন।”

এখানেই শেষ নয়, আরও অভিযোগ উঠেছে যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অন্য দুই প্রভাবশালী ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকেরাও এই সিন্ডিকেট ও তোলা আদায়ের চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করত। যে জমিটি সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থা কলকাতা বন্দরের অধীনে, সেখানে কোন আইনি এক্তিয়ারে একটি ক্লাব বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের থেকে ‘ভাড়া’ বা ‘তোলা’ তুলছিল, তা নিয়ে উঠছে মোক্ষম প্রশ্ন। বস্তিবাসীদের দাবি, প্রতি মাসে মুখ বুজে হাজার হাজার টাকা দিলেও মেলেনি ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রাখা হয়েছে এই পরিবারগুলিকে।

এই মারাত্মক তোলাবাজির খবর ছড়িয়ে পড়তেই রণক্ষেত্রের রূপ নেয় কালীঘাট সংলগ্ন এলাকা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তড়িঘড়ি সেখানে পৌঁছায় স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁরা ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়িয়ে একটি সম্মিলিত স্মারকলিপি তৈরি করেছেন। জানা গিয়েছে, বর্তমান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর দপ্তরে সরাসরি এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইদের নাম জড়িয়ে যাওয়ার ফলে এই ঘটনা যে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিকে ওলটপালট করে দিতে পারে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই মহা-দুর্নীতির জল কতদূর গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।